চীনের বেইজিংয়ে চীন ও ভারতের সীমান্ত বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিদের ২৫তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন ও সীমান্ত সমস্যা নিরসনে গুরুত্বারোপ করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত কুমার দোভাল। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উভয় পক্ষই সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা এশিয়াসহ বিশ্বরাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বৈঠকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই বলেন, চীন ও ভারত বিশ্বের প্রধান দুটি উন্নয়নশীল দেশ এবং উদীয়মান অর্থনীতি। দুই দেশের সম্পর্কের স্থিতিশীল উন্নয়ন শুধু নিজ দেশের জনগণের জন্যই নয়, বরং গ্লোবাল সাউথের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্যও জরুরি। তিনি আরও জানান, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক বৈঠকের আলোকে দুই দেশ কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী।
ভারতের বিশেষ প্রতিনিধি অজিত কুমার দোভাল বলেন, ভারত ও চীনকে একে অপরের প্রতিযোগী হিসেবে না দেখে অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের নেতাদের নির্দেশনায় সম্পর্ক সঠিক পথে ফিরেছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি এখন সামগ্রিকভাবে শান্ত রয়েছে। সীমান্ত এলাকার কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে ভারত কাজ করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে দুই পক্ষ ২০০৫ সালে গৃহীত রাজনৈতিক নির্দেশিকা অনুসরণ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এছাড়া সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও তারা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক কাঠামোতে সীমান্ত ইস্যুকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়েও উভয় নেতা একমত হয়েছেন।
আলোচনার অংশ হিসেবে চীন ও ভারত ২০২৭ সালে ভারতের মাটিতে সীমান্ত বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিদের ২৬তম বৈঠক আয়োজনের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।