বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। ঐতিহাসিক এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়া ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মামলার বিস্তারিত
প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। অভিযুক্তদের তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। প্রসিকিউশন পক্ষ আদালতে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানালে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন।
কারাগারে যারা আছেন
বর্তমানে এই মামলায় নয়জন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক এবং সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম। এছাড়াও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুও কারাগারে আটক রয়েছেন।
তদন্ত ও পটভূমি
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরের জমায়েতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ৫৮ জন নিহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত দল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নতুন করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বর্তমান আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।