ঢাকাThursday , 27 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

গ্রিনল্যান্ডের পিটারম্যান হিমবাহ থেকে ম্যানহাটনের সমান বিশাল বরফখণ্ড বিচ্ছিন্ন


August 27, 2026 6:15 am
Link Copied!

গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত পিটারম্যান হিমবাহ থেকে ম্যানহাটনের সমান আয়তনের একটি বিশাল বরফখণ্ড বিচ্ছিন্ন হয়েছে। অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্তর্জাতিক একটি দল এই ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে। হিমবাহের ভাসমান আইস টাং বা বরফের জিহ্বা থেকে গত ৪ আগস্ট ৭৬.৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বিশাল বরফের দ্বীপটি ভেঙে সমুদ্রে ভেসে যায়। ২০১২ সালের পর এটিই ওই হিমবাহ থেকে সবচেয়ে বড় বরফখণ্ড বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিচ্ছিন্ন হওয়া এই বরফখণ্ডটির পুরুত্ব ১৫০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের পিএইচডি শিক্ষার্থী অ্যাডাম গারবো স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই ভাঙন চিহ্নিত করেন। অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়, স্টার্লিং বিশ্ববিদ্যালয়, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডা, ল্যাঙ্কাস্টার বিশ্ববিদ্যালয় এবং লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে গঠিত গবেষক দলটি দীর্ঘদিন ধরে এই হিমবাহটির ওপর নজর রাখছিল।

২০১৯ সাল থেকেই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পিটারম্যান হিমবাহের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে আসছিলেন বিজ্ঞানীরা। হিমবাহের ভাসমান অংশে ফাটল দেখা দেওয়া এবং সেগুলোর বিস্তৃতি বাড়তে থাকায় বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা করা হচ্ছিল। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেন্টিনেল-১ মিশনের পাঠানো চিত্রে ৩ আগস্ট হিমবাহের মূল অংশে ফাটল স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং ৪ আগস্ট রাত ৮টার দিকে তা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ঘটনার এখানেই শেষ নয়। হিমবাহের আইস টাংয়ের আরও দুটি বিশাল অংশ অদূর ভবিষ্যতে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফাটলের কারণে ওই অংশগুলোও ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদি পরবর্তী দুটি বড় অংশ ভেঙে যায়, তবে পিটারম্যান হিমবাহের ভাসমান অংশের প্রায় ২২ শতাংশ হারিয়ে যাবে।

বিচ্ছিন্ন হওয়া এই বিশাল বরফখণ্ডগুলো সামুদ্রিক জাহাজ ও অবকাঠামোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ বিষয়ে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডার বিশেষজ্ঞ ড. আবিগেইল ডাল্টন জানান, এই বরফখণ্ডগুলো বছরের পর বছর সমুদ্রে ভেসে থাকতে পারে। সময়ের সাথে সাথে এগুলো ভেঙে আরও ছোট ছোট টুকরোয় পরিণত হয়, যা রাডারে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বরফখণ্ডের গতিপথ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।