ঢাকাThursday , 27 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ১৬২ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ দেড় হাজার


August 27, 2026 1:45 pm
Link Copied!

নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলটিতে গত বুধবার আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ১৬২ জন নিহত হয়েছেন। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে এখনো প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ৮০০ জন বিদেশি পর্যটক। হিমালয়ের জটিল ভূপ্রকৃতি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট এই পরিস্থিতিকে বিশেষজ্ঞরা ‘তরল কংক্রিটের’ স্রোতের সাথে তুলনা করছেন।

দুর্যোগের কারণ ও ভয়াবহতা
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, ভূমিধসের ফলে স্থানীয় একটি নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে আটকে গিয়ে প্রাকৃতিক বাঁধের সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই বাঁধ ভেঙে পানির প্রবল ঢল ও কাদা নিচের দিকে আছড়ে পড়ে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) শুরুতে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্পকে ভূমিধসের কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও, পরবর্তী বিশ্লেষণে দেখা গেছে ভূমিধসের কারণেই ওই ভূকম্পন অনুভূত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিআইএমওডির বিশ্লেষক সার্থক শ্রেষ্ঠের ধারণা, নেপাল অংশে পাথুরে বরফধসের ফলে লেন্দে নদীর গতিপথ রুদ্ধ হয়ে এই তীব্র বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ
টেক্সাস ইউনিভার্সিটি সান আন্তোনিওর জলবিজ্ঞানী হাতিম শরিফ জানান, দুর্যোগের আগে আশপাশে বৃষ্টিপাত না হওয়া সত্ত্বেও এমন প্রবল বন্যা বিশ্বজুড়ে প্রচলিত বন্যা সতর্কতা ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দিয়েছে। দ্রুত ধেয়ে আসা কাদা ও পানির ঢল থেকে বাঁচতে গাড়ি বা পায়ে হেঁটে পালানো প্রায় অসম্ভব। রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডরোথি হাইনরিচ জানান, সংকীর্ণ পাহাড়ি নদীগুলোর গতিপথ ভূমিধসের কারণে আটকে যাওয়ায় বিপুল পানি জমে এমন ভয়াবহ ঢল নেমে আসে।

বর্তমান পরিস্থিতি ও আশঙ্কা
আইসিআইএমওডির চিয়াংগং ঝাং সতর্ক করেছেন যে, উজানে এখনো নদীর গতিপথ আটকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে আবারও প্রবল ঢল নামতে পারে। এদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহ গলে যাওয়া এবং হিমালয় অঞ্চলে নিয়মিত পরিবর্তনের ফলে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা ‘অ্যাট্রিবিউশন স্টাডি’ শুরু করতে যাচ্ছেন। বর্তমানে উদ্ধারকারীরা এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করে কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়া ব্যক্তিদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।