যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে পেন্টাগনের প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এফ-৩৫ জয়েন্ট স্ট্রাইক ফাইটার বিমান কেনার খরচ গত কয়েক বছরে বৃদ্ধি পেলেও, দীর্ঘমেয়াদী পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় প্রত্যাশার চেয়ে কম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পেন্টাগনের এই আধুনিকায়িত সিলেক্টিভ অ্যাকুইজিশন রিপোর্ট (এমএসএআর) অনুযায়ী, সব মিলিয়ে এফ-৩৫ বিমানের লাইফসাইকেল বা জীবনকাল খরচ ১.৯৩ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। যা ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখিত ২.০৬ ট্রিলিয়ন ডলারের তুলনায় কিছুটা কম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এফ-৩৫ বিমানের সকল সংস্করণ মিলিয়ে মোট ক্রয়ের আনুমানিক খরচ দাঁড়িয়েছে ৫৩৬.৩ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের ৫৪০.২ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি। এই খরচের মধ্যে উন্নয়ন এবং সংগ্রহ ব্যয় অন্তর্ভুক্ত। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের জয়েন্ট প্রোগ্রাম অফিসের (জেপিও) মুখপাত্র জানান, মূলত বিমানের ইঞ্জিন উন্নয়ন এবং খুচরা যন্ত্রাংশসহ রাডার ক্রয়ের বর্ধিত ব্যয়ের কারণে এই সংগ্রহ খরচ বেড়েছে।
লাইফসাইকেল খরচের এই হিসাবটি মূলত আগামী ছয় দশকের সম্ভাব্য খরচের একটি পূর্বাভাস। জ্বালানি, জনবল এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত আপগ্রেডের ওপর ভিত্তি করে এই অংক নির্ধারণ করা হয়েছে। পেন্টাগন দাবি করেছে, বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে নেওয়া বিভিন্ন সাশ্রয়ী পদক্ষেপের কারণেই দীর্ঘমেয়াদী এই ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, লকহিড মার্টিন নির্মিত এই স্টিলথ যুদ্ধবিমানটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বিশ্বের ১৯টি দেশের বিমান বাহিনী ব্যবহার করছে। আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ব্লক ৪ এবং ইঞ্জিনের ক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলমান রয়েছে। তবে ব্লকের কম্পিউটিং ব্যাকবোন বা টেকনোলজি রিফ্রেশ ৩ এখনও যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি সনদপ্রাপ্ত না হওয়ায় কিছু বিমান বর্তমানে শুধু প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।