রাশিয়ার নৌবাহিনীতে প্রথমবারের মতো যুক্ত হতে যাচ্ছে ৩এম২২ জিরকন হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন। রুশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল আলেকজান্ডার মোইসেয়েভ নিশ্চিত করেছেন যে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ‘পার্ম’ নামের ইয়াসেন-এম শ্রেণির আক্রমণাত্মক সাবমেরিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবহরে যুক্ত হবে। এই প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার ফলে রাশিয়ার দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা এবং যুদ্ধের ময়দানে টিকে থাকার ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, জিরকন ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত এই সাবমেরিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরিগুলোর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। জিরকন ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ গতি ম্যাক ৯ এবং এর পাল্লা প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার। সেই সাথে উচ্চ গতিতে চলার সময় কৌশল পরিবর্তনের বিশেষ সক্ষমতা থাকায় এটি বর্তমানের যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে সক্ষম।
ইয়াসেন-এম শ্রেণির ষষ্ঠ সাবমেরিন হলো ‘পার্ম’। এই সিরিজের আগের পাঁচটি সাবমেরিনেও জিরকন ব্যবহারের উপযোগী করে পরিবর্তনের কাজ চলছে। তবে পার্ম সাবমেরিনটিকে শুরু থেকেই এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যেন এর উল্লম্ব ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা দিয়ে সহজেই জিরকন ছোড়া যায়। প্রায় ১৪ হাজার টন ওজনের প্রতিটি সাবমেরিন সর্বোচ্চ ৩২টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে।
রাশিয়া ইয়াসেন-এম শ্রেণির অন্তত এক ডজনের বেশি সাবমেরিন নৌবহরে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে সিরিজের দশম সাবমেরিন ‘মুরমানস্ক’-এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির সুবাদে এই সাবমেরিনগুলো অত্যন্ত নীরব এবং এগুলো শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব বলে দাবি করা হচ্ছে। শত্রু যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি স্থলভাগের কমান্ড সেন্টার বা বিমানঘাঁটির মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম হবে রাশিয়ার এই নতুন সামরিক সক্ষমতা।