ঢাকাFriday , 31 July 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

আন্দামান সাগরে রোহিঙ্গা মৃত্যুরোধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জাতিসংঘের


July 31, 2026 11:20 am
Link Copied!

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভুক্তভোগীদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি ও রাষ্ট্রহীনতার কারণে রোহিঙ্গারা মানব পাচারকারীদের সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছে, যা তাদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনছে।

সমুদ্রপথে ঝুঁকি ও মৃত্যু
২০২৫ সালে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা করেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৯০০ জন মারা গেছেন। আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দেওয়া যাত্রীদের প্রতি সাতজনের একজন নিখোঁজ বা মৃত্যুবরণ করেছেন, যা বিশ্বের অন্যান্য সমুদ্রপথের তুলনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুহার। সমুদ্রযাত্রীদের প্রায় ৬৬ শতাংশই নারী ও শিশু। জুন মাসে মিয়ানমারের উপকূলের কাছে দুটি নৌযানডুবির ঘটনায় ৫০০ জনেরও বেশি যাত্রী নিখোঁজ হয়েছেন, যার মধ্যে বাংলাদেশের কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে যাওয়া রোহিঙ্গারাও রয়েছেন।

পাচারের ভয়াবহ ঝুঁকি
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জীবনযাত্রায় বিধিনিষেধ থাকায় তারা মানব পাচারকারীদের টার্গেটে পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, তরুণ ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। অপরাধী চক্রগুলো চাকরি, শিক্ষা ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের পাচার করছে। শিবিরের প্রতি চারজন নারী ও কন্যাশিশুর মধ্যে একজন জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। উদ্ধার হওয়া শরণার্থীদের আইনি সহায়তা ও মানসিক চিকিৎসার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
বিশেষজ্ঞরা মানব পাচার প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের মানবিক সহায়তায় জেন্ডার সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন তারা। শরণার্থীদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চলাফেরার স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের রাষ্ট্রহীন অবস্থার অবসান ঘটানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।