মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের পোর্ট ক্লাংয়ে অবস্থিত অ্যারোফম ম্যানুফ্যাক্চারিং এসডিএন বিএইচডিতে কর্মরত ১১০ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের বকেয়া বেতন, ভিসা ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতা এবং মানবিক সংকটের সমাধানে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ, মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগ এবং মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে তারা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত ৩ জুন শ্রমিকরা ই-মেইলের মাধ্যমে হাইকমিশনে অভিযোগ করেন যে, তারা টানা তিন মাস বেতন পাচ্ছেন না। এছাড়া ২৭ জন কর্মীর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া, পাসপোর্ট আটকে রাখা এবং আবাসস্থলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার মতো অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন তারা। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকমিশন ৮ জুন একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজন করে। বৈঠকে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ৩০ জুনের মধ্যে সব সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করেনি।
শ্রমিকদের খাদ্য সংকট দেখা দিলে ২০ জুন হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল তাদের আবাসনস্থলে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে। একই সঙ্গে কোম্পানিকে বকেয়া বেতন না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণে আর্থিক সহায়তার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে কোম্পানি লিখিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করায় হাইকমিশন বিষয়টি মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগ ও মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নজরে আনে।
গত ২৭ জুলাই হাইকমিশনের প্রতিনিধি দল পোর্ট ক্লাংয়ের শ্রম দপ্তরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করে মামলার অগ্রগতি ও শ্রমিকদের অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা করেন। শ্রম বিভাগ জানিয়েছে, সমস্যার সমাধানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্তদের অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।
সর্বশেষ ২৯ জুলাই হাইকমিশনের একটি দল পুনরায় শ্রমিকদের কাছে গিয়ে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছে। বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধ কাগজপত্র নিশ্চিত করা, বকেয়া বেতন আদায় এবং কর্মসংস্থানের সংকট নিরসনে হাইকমিশনের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।