যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত এক গবেষণায় স্লিপ অ্যাপনিয়ার চিকিৎসায় নতুন এক ওষুধের কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। আমেরিকান থোরাসিক সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, এডি১০৯ (AD109) নামক এই ওষুধটি নিয়মিত সেবনে আক্রান্ত রোগীদের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। স্লিপ অ্যাপনিয়ার প্রচলিত সিপ্যাপ (CPAP) মেশিনের বিকল্প হিসেবে এটি রোগীদের জন্য এক নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে।
গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে শ্বাস প্রশ্বাসের বিরতি প্রায় ৪৪ শতাংশ কমেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পিটসবার্গ মেডিকেল সেন্টারের স্লিপ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্যাট্রিক জন স্ট্রলো জানান, ওষুধটি শ্বাসনালীর পেশিকে শক্তিশালী করতে কাজ করে, যা ঘুমের সময় শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে যাওয়া রোধ করে।
বর্তমানে স্লিপ অ্যাপনিয়ার চিকিৎসায় সিপ্যাপ মেশিনকে গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে বিবেচনা করা হলেও অনেক রোগী এটি ব্যবহারে অস্বস্তি বোধ করেন বা ব্যবহার করতে পারেন না। এডি১০৯ ওষুধটি সেই সকল রোগীদের জন্য একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারী ৬৪৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর ওপর এই পরীক্ষা চালানো হয়েছিল, যারা এর আগে সিপ্যাপ ব্যবহারে অসম্মতি জানিয়েছিলেন বা ব্যর্থ হয়েছিলেন।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, ওষুধটি গ্রহণকারী রোগীদের রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বেড়েছে এবং অনেকের ক্ষেত্রে রোগের তীব্রতা কমেছে। প্রায় ৪০ শতাংশ রোগী তাদের রোগের ক্যাটাগরি থেকে উন্নতির দিকে গিয়েছেন এবং ১৮ শতাংশের ক্ষেত্রে রোগ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
ওষুধটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে বমি ভাব, মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা অনিদ্রার মতো সাধারণ সমস্যার কথা জানিয়েছেন কিছু রোগী। ট্রায়াল চলাকালীন প্রায় ২১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে ওষুধ সেবন বন্ধ করেছিলেন। তবে গবেষকদের দাবি, এডি১০৯-এর নিরাপত্তা প্রোফাইল গ্রহণযোগ্য।
ওষুধটির প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাপনিমেড ইতোমধ্যে এফডিএ-এর কাছে অনুমোদনের জন্য আবেদন জানিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে ওষুধটি বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।