বাংলাদেশের ঢাকার কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলোর কার্যালয়ে ১৮০তম অনলাইন পরামর্শ সহায়তা সভায় সন্তানের মন বোঝার উপায় ও অভিভাবকদের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আয়োজিত এই সভায় মূল আলোচক ছিলেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. জোবায়ের মিয়া। বয়ঃসন্ধিকালে সন্তানদের মানসিক পরিবর্তন বোঝা এবং তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য।
অভিভাবকত্বের ধরন ও প্রভাব
ডা. জোবায়ের মিয়া জানান, অভিভাবকত্ব সাধারণত চার ধরনের হয়—কর্তৃত্ববাদী, কর্তৃত্বপরায়ণ, অবহেলাপূর্ণ এবং অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া। এর মধ্যে কর্তৃত্বপরায়ণ অভিভাবকত্বে সন্তানরা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে এবং অভিভাবকদের থেকে দূরে সরে যায়। অন্যদিকে, নিয়মকানুন মেনে সন্তানকে মতামতের সুযোগ দিলে তারা সুশৃঙ্খল ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।
অন্তর্মুখী সন্তানের ক্ষেত্রে করণীয়
সব সন্তান প্রাণবন্ত হয় না। যারা অন্তর্মুখী, তাদের ওপর নজরদারি না করে বরং ভরসার পরিবেশ তৈরি করতে পরামর্শ দিয়েছেন ডা. জোবায়ের মিয়া। তিনি বলেন, সন্তানরা যখন মনে করে তাদের কথা অন্যদের সামনে প্রকাশ করা হবে বা উপহাস করা হবে, তখনই তারা মনের কথা লুকিয়ে ফেলে। তাদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং মমতা দিয়ে কথা বলাই তাদের কাছে পাওয়ার সেরা উপায়।
মানসিক সমস্যার লক্ষণ ও উত্তরণ
সন্তানদের মানসিক কষ্টে থাকার বেশ কিছু লক্ষণ রয়েছে, যেমন—হঠাৎ নিজের জগতে গুটিয়ে যাওয়া, পড়াশোনায় ধারাবাহিক অবনতি, পছন্দের কাজ থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং মেজাজ খিটখিটে হওয়া। অভিভাবকেরা যখন বুঝতে পারেন সব চেষ্টাতেও সন্তানের আচরণগত পরিবর্তন বা মাদকাসক্তির মতো ঝুঁকি দেখা দিচ্ছে, তখন দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলে তিনি মত দেন।
ভুল আচরণ ও সংশোধন
সন্তানদের অন্যদের সঙ্গে তুলনা করা বা অপমানসূচক শব্দ ব্যবহার করা তাদের মানসিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অভিভাবকেরা নিজেরা ডিভাইসে আসক্ত থেকে সন্তানকে ফোন ব্যবহার না করতে বললে সন্তান কখনোই তা শুনবে না। তাই সন্তানের ছোট ছোট সাফল্যকে মূল্যায়ন এবং ব্যক্তিগত আচরণ পরিবর্তনের মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।