ভারতের দিল্লিতে নিট পরীক্ষা দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে টানা এক মাস আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলনের চাপে সরকার নতিস্বীকার করে সব দাবি মেনে নেওয়ায় মোদি প্রশাসনের বড় ধরনের অঘটন ঘটল। এই সাফল্য সিজেপিকে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার পথে নিয়ে যাবে কি না, তা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
আন্দোলনের প্রভাব ও রাজনৈতিক সম্ভাবনা
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রঙ্কা পূর্ণাঙ্গ রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেননি। তিনি রসিকতার সুরে জানান, ভারতে কোনো কিছুতেই না বলতে নেই। তবে সংগঠনের আরেক মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, তাদের মূল লক্ষ্য আপাতত রাজনীতি নয়, বরং ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করা। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলো তরুণদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে, তাই তারা এই আন্দোলনকে একটি সামাজিক শক্তিতে পরিণত করতে চান যাতে কোনো সরকারই তরুণদের দাবি উপেক্ষা করতে না পারে।
মোদি আমলে বিরল পদত্যাগ
নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনামলে কোনো বড় বিতর্কের জেরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগের এটি দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে ২০১৮ সালে এম জে আকবর পদত্যাগ করেছিলেন। সিজেপির সাথে বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের বৈঠকে সমঝোতার অংশ হিসেবে সরকার আন্দোলনের সব দাবি মেনে নেয়।
চুক্তির মূল শর্ত
সরকারের সাথে হওয়া ঐতিহাসিক সমঝোতার আওতায় ৩৭ দিনে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর তুলে নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো মামলা হবে না। এছাড়া প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে সর্বোচ্চ সরকারি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সব দাবি পূরণ হওয়ায় সিজেপি যন্তর মন্তরের অনির্দিষ্টকালের আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে।
বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট অভিজিৎ দিপকের একটি প্যারোডি অনলাইন ক্যাম্পেইন থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন আজ ভারতের ছাত্র রাজনীতির সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।