যুক্তরাজ্যের লিঙ্কনশায়ারের উইগটফটে হিটিং অয়েলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং পরবর্তী বাজার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। জন ক্র্যাগস নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে গত এক বছরে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। শীতের প্রস্তুতির জন্য এখন তেল কেনা হবে নাকি দাম কমার আশায় অপেক্ষা করা হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছেন তিনিসহ অনেক পরিবার।
৭৩ বছর বয়সী জন ক্র্যাগস এবং তার স্ত্রী লিবির মতো হাজারো মানুষ এখন সাশ্রয়ের পথ খুঁজছেন। জন ক্র্যাগস জানান, খরচ সামলাতে শীতকালে বাড়ির মাত্র তিনটি কক্ষে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার পরিকল্পনা করেছেন তারা। অধিকাংশ সময় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকলেও উচ্চ মূল্যের কারণে পর্যাপ্ত উষ্ণতা বজায় রাখা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রায় ১৫ লাখ পরিবার ঘর উষ্ণ রাখতে হিটিং অয়েলের ওপর নির্ভর করে, যার সিংহভাগই গ্রামীণ এলাকার। গ্যাস বা বিদ্যুতের গ্রাহকদের মতো হিটিং অয়েলের ব্যবহারকারীরা কোনো প্রাইস ক্যাপ বা দামের সুরক্ষার আওতায় নেই। ফলে বাজারের আকস্মিক দামের ওঠানামা তাদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ১,০০০ লিটারের একটি ট্যাঙ্ক পূর্ণ করতে বর্তমানে প্রায় ৯৭০ পাউন্ড খরচ হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় ৮৫ শতাংশ বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের পক্ষ থেকে গত মার্চে ৫৩ মিলিয়ন পাউন্ডের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হলেও এর আওতা ও প্রাপ্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ন্যাশনাল এনার্জি অ্যাকশন নামক সংস্থার মতে, গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো হিটিং অয়েলের ক্ষেত্রেও প্রাইস ক্যাপ কার্যকর করা জরুরি। একই সঙ্গে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সহায়তার আওতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে তারা।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও নেট জিরো বিষয়ক দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিলে ভ্যাট কমানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে গৃহস্থালিদের সুরক্ষায় আরও কী করা যায়, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।