দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অবস্থিত ইলেকট্রনিক্স নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলজি বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তাদের স্মার্ট টিভিগুলো গ্রাহকদের কথোপকথন আড়ি পেতে শোনার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে না। গেমারসনেক্সাস নামে একটি গেমিং ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই বিবৃতি দেয় কোম্পানিটি। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে এলজি টিভিকে আড়ি পাতার যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।
এলজির একজন মুখপাত্র বলেন, প্রকাশিত ভিডিওর দাবিগুলো সত্য নয়। কোম্পানিটির ভাষ্যমতে, রিমোট কন্ট্রোলের ভয়েস বাটন চেপে ধরলে অথবা গ্রাহক নির্দিষ্ট ‘ওয়েক ওয়ার্ড’ উচ্চারণ করলেই কেবল এলজি টিভি ভয়েস ডেটা প্রসেস করে। এই প্রক্রিয়ার বাইরে টিভিগুলো কোনোভাবেই আশেপাশের কথোপকথন সংগ্রহ বা রেকর্ড করে না।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, যদি ডিভাইসটি ওয়েক ওয়ার্ড শনাক্ত করতে না পারে, তবে কোনো ভয়েস ডেটা সার্ভারে পাঠানো হয় না এবং ওয়েক ওয়ার্ড শনাক্ত হওয়ার পরপরই তা স্থানীয়ভাবে মুছে ফেলা হয়।
গেমারসনেক্সাসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, তারা এলজি জি৫ ওএলইডি টিভিতে ‘ম্যান-ইন-দ্য-মিডল’ আক্রমণ চালিয়ে সেটিকে শোনার যন্ত্রে পরিণত করেছে। এমনকি টেলিভিশনের মাইক্রোফোন বন্ধ থাকলেও এই প্রক্রিয়ায় অডিও রেকর্ড করা সম্ভব বলে তারা অভিযোগ করে। ভিডিওটিতে আরও দাবি করা হয়, এলজি টিভির অটমেটিক কনটেন্ট রিকগনিশন (এসিআর) ফিচারের দুর্বলতার কারণে বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য এই ডেটা ব্যবহার করা হতে পারে।
এ বিষয়ে এলজি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টিভিতে থাকা নেটওয়ার্ক স্ক্যানিং সুবিধা একটি স্ট্যান্ডার্ড ফিচার, যা স্মার্ট টিভি এবং স্মার্ট হোম ডিভাইসে সাধারণত থাকে। এতে ডিভাইসের নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকার দাবিটি ভিত্তিহীন। তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, অননুমোদিত ডেটা সংগ্রহ ও গোপনীয়তা লঙ্ঘন এড়াতে সন্দেহজনক ডিভাইসগুলোকে নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন রাখাই শ্রেয়।