যুক্তরাজ্যের নর্থ ইয়র্কশায়ারের বরোব্রিজ এলাকায় অবস্থিত ব্রিটেনের দীর্ঘতম প্রাচীন পাথরের সারি ‘ডেভিলস অ্যারোস’ নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্য উন্মোচন করেছেন গবেষকরা। কার্টিন ইউনিভার্সিটি এবং ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৪ হাজার বছর আগে নব্যপ্রস্তর বা ব্রোঞ্জ যুগে এই বিশাল পাথরগুলো অন্তত ১৮ কিলোমিটার (১১ মাইল) দূর থেকে বয়ে আনা হয়েছিল।
গবেষক দলের প্রধান ড. অ্যান্থনি ক্লার্ক জানিয়েছেন, পাথরগুলো ব্রিমহ্যাম রকস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। প্রতিটি পাথরের ওজন প্রায় ২৫ টন বা ৫৫ হাজার পাউন্ড। এর আগে ধারণা করা হয়েছিল পাথরগুলো সম্ভবত কাছাকাছি কোনো স্থান থেকে আনা হয়েছিল, কিন্তু আধুনিক ভূ-তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে প্রাচীন নির্মাতারা অনেক দূর থেকে পরিশ্রম করে এই পাথরগুলো এনেছিলেন।
গবেষকদের মতে, এই পাথরগুলো পরিবহনের জন্য অসাধারণ প্রকৌশল দক্ষতা এবং সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন ছিল। ড. ক্লার্ক আরও বলেন, তৎকালীন মানুষ কেবল সুবিধার কথা চিন্তা করে কাছাকাছি স্থান থেকে পাথর নির্বাচন করেনি, বরং ব্রিমহ্যাম রকসের মতো সুনির্দিষ্ট এলাকা বেছে নেওয়ার পেছনে সম্ভবত তাদের কোনো সাংস্কৃতিক বা আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্য ছিল।
ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির সহ-গবেষক ড. জিম লিয়ারি মনে করেন, এই আবিষ্কার প্রাগৈতিহাসিক যুগের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ধরণ সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, প্রাচীন সমাজগুলো তাদের বিশ্বাসের জায়গা থেকে পাথর সংগ্রহের ক্ষেত্রে অর্থবহ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করত।
পাথরগুলোর উৎস শনাক্ত করতে গবেষকরা নতুন এক প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। তারা পাথরের কোনো ক্ষতি না করেই আঠালো টেপের সাহায্যে ক্ষুদ্র খনিজ কণা সংগ্রহ করেন। এরপর সেই খনিজগুলোর বয়স পরীক্ষা করে ব্রিমহ্যাম রকসের নমুনার সাথে মিলিয়ে দেখা হয়। এই পদ্ধতিটি হিমবাহের কারণে পাথর স্থানান্তরের মতো প্রাকৃতিক সম্ভাবনাগুলোকেও নাকচ করে দিয়েছে, যা নিশ্চিত করে যে পাথরগুলো মানুষই সরিয়ে নিয়েছিল।