যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মিরাসিনোনিস ট্রুম্যানি নামক বিলুপ্ত উত্তর আমেরিকান শিকারি প্রাণী নিয়ে গবেষণা চালিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন। এতদিন এই প্রাণীটিকে ‘আমেরিকান চিতা’ হিসেবে অভিহিত করা হলেও নতুন জিনগত ও জীবাশ্ম বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এটি আসলে চিতা নয়। এটি পুমার একটি ঘনিষ্ঠ প্রজাতি, যা তার পরিবেশের সাথে অত্যন্ত মানিয়ে নিতে সক্ষম ছিল।
কারেন্ট বায়োলজি জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, সুমেরু অঞ্চলে থাকা এই প্রাণীরা মূলত মাছ খেয়ে বেঁচে থাকত। বিশেষ করে আর্কটিক অঞ্চলের ইউকন এলাকায় এদের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে দক্ষিণ দিকে থাকা এই পুমার প্রজাতি স্থলজ শিকারি হিসেবেই জীবন অতিবাহিত করত। গবেষকদের মতে, এই প্রাণীর শারীরিক গঠন চিতার মতো হওয়ার কারণ এটি নয় যে তারা চিতার আত্মীয়, বরং এটি বিবর্তনীয় অভিন্নতার একটি উদাহরণ। অর্থাৎ, পরিবেশগত চাপের কারণে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর শারীরিক গঠন একই রকম হয়ে ওঠে।
প্রায় ১৫ বছর আগে এই প্রাণীর ওজন গড়ে ১৫০ পাউন্ড এবং উচ্চতা প্রায় ৩ ফুট ছিল বলে ধারণা করা হয়। এদের লম্বা সামনের পা ও ছিপছিপে শরীর তাদের দ্রুত দৌড়াতে সাহায্য করত। তবে আধুনিক চিতার তুলনায় এরা আরও বৈচিত্র্যময় শিকারি ছিল। গবেষণায় আরও দেখা যায়, এই প্রাণীর জিনগত বৈচিত্র্য খুব কম ছিল, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদী বিবর্তনের এক পর্যায়ে এরা বিলুপ্ত হয়ে যায়। এছাড়া স্বাদ অনুভবের ক্ষেত্রেও এদের জিনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে, যা তাদের বিশেষ খাদ্যাভ্যাসের ইঙ্গিত দেয়। এই গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, কেবল শারীরিক গঠন দেখে কোনো বিলুপ্ত প্রাণীর প্রজাতি নির্ধারণ করা ভুল হতে পারে।