ইসরায়েলের জেরুজালেমে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চালকবিহীন যান ও রোবোটিক্স প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি নতুন সামরিক শাখা গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। আইডিএফ প্রধান চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির জানিয়েছেন, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত পরিবর্তনের সাথে তাল মেলাতেই এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নতুন শাখাটি ডিসেম্বরের শুরুর দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে।
কেন এই উদ্যোগ
আইডিএফ প্রধান ইয়াল জামির জানান, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন, রোবোটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যাপক ব্যবহারের গুরুত্ব অনুধাবন করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রযুক্তিগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি মানুষের পাশাপাশি অথবা স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম হবে, যা একদিকে যেমন অভিযানের সক্ষমতা বাড়াবে, অন্যদিকে অনেক প্রাণহানিও রোধ করবে।
বিশেষজ্ঞদের মত
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ইয়াকভ কাটজ মনে করেন, এই নতুন শাখা গঠনের সিদ্ধান্তটি আইডিএফ-এর সেই ক্রমবর্ধমান উপলব্ধিকে প্রতিফলিত করে যে, আধুনিক যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণে রোবোটিক্স এবং এআই-চালিত সিস্টেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিপুল পরিমাণ তথ্য দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
নৌবাহিনীর ক্ষেত্রে প্রভাব
নৌবাহিনীর একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় জেনারেল জামির উল্লেখ করেন, সামুদ্রিক যুদ্ধের ময়দানেও এই নতুন প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সমুদ্রের উপরিভাগ এবং তলদেশে স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের সমন্বয় ঘটানোর মাধ্যমে ইসরায়েলি নৌবাহিনীর শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা হবে।
প্রযুক্তির অগ্রগতি
ইসরায়েলের প্রযুক্তি খাত বর্তমানে এআই বাণিজ্যিকীকরণের ক্ষেত্রে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। গত অক্টোবরে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে স্থল ও আকাশপথে প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে নতুন এই শাখাটি তৈরি করা হয়েছে। যদিও গত ৭ অক্টোবরের হামলার পর ইসরায়েলের উচ্চ-প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক কৌশলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, তবে বর্তমান এই উদ্যোগের মাধ্যমে সামরিক প্রযুক্তিতে নিজেদের বিশ্বনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়েছে আইডিএফ।