বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার আদালতে বিচারাধীন একটি মামলায় দেড় কোটি টাকা প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হোসেন মুহাম্মদ তামজীদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পিবিআই আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে দণ্ডবিধির ৪২০ ও ৪০৬ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার কথা উল্লেখ করলেও, প্রধান অভিযুক্ত এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় ভুক্তভোগী জাকির হোসেন হতাশা ও শঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালে, যখন পারিবারিক সম্পর্কের সুবাদে ব্যবসায়ী হোসেন মুহাম্মদ তামজীদ বাদীর কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা ঋণ নেন। চুক্তিনামা ও চেক প্রদানের মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার পর তামজীদ তা ফেরত দিতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে চেকগুলো ব্যাংকে জমা দিলে অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে সেগুলো প্রত্যাখ্যাত হয়। এছাড়া ২০২৪ সালের মার্চ মাসে টাকা ফেরত চাইলে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আদালতের নির্দেশে পিবিআই উত্তর ঢাকা মেট্রো শাখা বিষয়টি তদন্ত করে। তদন্তে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষী গ্রহণ এবং চুক্তিনামা, ব্যাংক নথি ও হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মতো ডিজিটাল আলামত পর্যালোচনা করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কেবল অর্থ আত্মসাৎই করেননি, বরং চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন।
তদন্তে প্রতারণার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী। তিনি অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্ত প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাকে আইনের আওতায় আনছে না। দ্রুত প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।