যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ধরনে একটি মৌলিক পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। ব্রিটেনের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে সোমবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী এই পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। ব্যবসায়িক ঝুঁকি গ্রহণকারীদের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া এবং স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বেসরকারি খাতের কার্যকর সমন্বয়ের ওপর জোর দিতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে।
ডাউনিং স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকে বিপি, শেল, এইচএসবিসি, মরিসনস, সেইন্সবারিস, বিটি, ভোডাফোন ও রোলস-রয়েসের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় নেতাদের ক্ষমতায়ন এবং সরকারের সঙ্গে ব্যবসার অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমেই বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম বলেন, নতুন ধারণার মালিকদের সাহস জোগানো সরকারের দায়িত্ব, যাতে তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেন। সরকারের পক্ষ থেকে একে ‘প্রবৃদ্ধির অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে লেবার সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়োগকর্তাদের জাতীয় বীমা ও ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর মতো পদক্ষেপে ব্যবসায়িক ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে। চ্যান্সেলর জন হিলি আগামী মাসে তার প্রথম বাজেট পেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সরকারি ঋণের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এখন প্রকট।
অন্যদিকে, ব্রিটিশ হসপিটালিটি খাতের ৮০০ জনেরও বেশি উদ্যোক্তা, যাদের মধ্যে বিখ্যাত শেফ হেস্টন ব্লুমেনথাল ও টম কারিজিও রয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেখানে তারা ভ্যাট ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কথা জানানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সরকারি ঋণের ব্যয় যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জাপানের তুলনায় বেশি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটে ভুগছে দেশটি। বিরোধী দলীয় ছায়া বাণিজ্যমন্ত্রী জুলিয়া লোপেজ সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, ব্যবসায়িক ব্যয় ও কর না কমিয়ে বরং কর কমিয়ে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা জরুরি।