যুক্তরাষ্ট্রের উডস হোল ওশেনোগ্রাফিক ইনস্টিটিউশন (WHOI) এর গবেষকরা জানিয়েছেন, ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে দীর্ঘদিনের জলবায়ুগত সম্পর্ক বর্তমানে অস্বাভাবিকভাবে ভেঙে পড়ছে। তাদের মতে, অতীতে আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত সাময়িকভাবে এই সংযোগে প্রভাব ফেললেও, বর্তমানে মানবসৃষ্ট বিশ্ব উষ্ণায়ন এই প্রক্রিয়াটিকে আরও জটিল ও ব্যতিক্রমী করে তুলেছে।
গবেষক দলটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ৪০০ বছর ধরে এই দুটি মহাসাগর জলবায়ুগতভাবে একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল। ১৮১০ থেকে ১৮৫০ সালের দিকে বড় ধরনের কয়েকটি আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের প্রভাব ভারত মহাসাগরের জলবায়ুর ওপর কমে গিয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। গবেষক শন ওয়াং এবং তার দলের মতে, আশির দশক থেকে ভারত মহাসাগর তার স্বাভাবিক আচরণ থেকে বেরিয়ে আসছে, যা সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত।
গবেষণায় প্রবাল প্রাচীর, গাছের বলয় এবং স্ট্যালাগমাইট থেকে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৬০০ সাল পর্যন্ত ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের জলবায়ু পরিস্থিতি পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে। গবেষক ক্যারোলিন উমেনহোফার উল্লেখ করেন, বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাস এখন প্রশান্ত মহাসাগরের সেই প্রাকৃতিক প্রভাবকে ছাপিয়ে যাচ্ছে, যা ভারত মহাসাগরের জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করত।
জলবায়ু পূর্বাভাস মডেল তৈরির ক্ষেত্রে এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ভারত মহাসাগর নিজেই একটি বিশাল তাপের আধার, যা প্রশান্ত মহাসাগরের প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বতন্ত্র আচরণ শুরু করেছে। এই পরিবর্তন বৃষ্টিপাত এবং বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রার বিন্যাসে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে গবেষকরা সতর্ক করেছেন।