ঢাকাThursday , 17 September 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

প্রত্যাশার চেয়ে ১০০ গুণ শক্তিশালী কৃষ্ণগহ্বরের বায়ুপ্রবাহ


September 16, 2026 10:15 pm
Link Copied!

জাপানের তোহোকু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মহাকাশে সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ নিয়ে নতুন তথ্য উদঘাটন করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, এই কৃষ্ণগহ্বরগুলো আগের ধারণার চেয়ে ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ তৈরি করতে সক্ষম, যা মহাকাশের বিশাল এলাকা জুড়ে শক্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে। তোহোকু বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রন্টিয়ার ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারডিসিপ্লিনারি সায়েন্সেস-এর সহকারী অধ্যাপক সাতোশি ইয়ামাদা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মহাবিশ্বের বিশালাকৃতির এই কৃষ্ণগহ্বরগুলো কীভাবে তাদের চারপাশের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করে, তা বুঝতে এই নতুন পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণা পদ্ধতি
ইয়ামাদা ও তার সহযোগীরা এক্স-রে অ্যাস্ট্রোনমি স্যাটেলাইট ‘এক্সরিসম’ (XRISM) ব্যবহার করে পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৪০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত ড্রেকো নক্ষত্রমণ্ডলীর কোয়াসার এইচ১৮২১+৬৪৩ পর্যবেক্ষণ করেন। কোয়াসার হলো অত্যন্ত উজ্জ্বল মহাজাগতিক বস্তু, যা তার কেন্দ্রে থাকা সুপারম্যাসিভ কৃষ্ণগহ্বরের শক্তির মাধ্যমে চালিত হয়। গবেষকরা কৃষ্ণগহ্বরের চারপাশে থাকা উত্তপ্ত গ্যাসের চলাচল পরিমাপ করতে আয়রন আয়ন থেকে নির্গত নিঃসরণ রেখা বিশ্লেষণ করেছেন।

কেন গুরুত্বপূর্ণ
পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কৃষ্ণগহ্বর থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ হোস্ট গ্যালাক্সির সীমানা ছাড়িয়ে প্রায় ৩ লাখ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই প্রবাহের ফলে সৃষ্ট অস্থিরতা বা টার্বুলেন্সের শক্তির পরিমাণ কয়েকশ কোটি সুপারনোভা বিস্ফোরণের সমান। এই প্রথম প্রমাণিত হলো যে, কৃষ্ণগহ্বর কেবল বস্তুকে নিজের দিকে টানে না, বরং শক্তিশালী শক ওয়েভ তৈরির মাধ্যমে মহাজাগতিক পরিবেশে বিশাল পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

পরবর্তী পদক্ষেপ
গবেষকদের মতে, সুপারম্যাসিভ কৃষ্ণগহ্বরগুলো কেবল গ্যালাক্সির কেন্দ্রে বস্তুকে গ্রাস করে না, বরং বিপুল পরিমাণ শক্তি ও গ্যাস চারপাশের মহাকাশে ছড়িয়ে দিয়ে গ্যালাক্সি ও গ্যালাক্সি ক্লাস্টারের গঠন নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। নেচার অ্যাস্ট্রোনমি জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যতে মহাকাশে পদার্থ ও শক্তির চলাচল বুঝতে বিজ্ঞানীদের সহায়তা করবে।