যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের রোজেনস্টিল স্কুল অব মেরিন, অ্যাটমস্ফেরিক অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সের গবেষকরা ঘূর্ণিঝড় শক্তিশালী হওয়ার চারটি আগাম সংকেত শনাক্ত করেছেন। ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নোয়া) বা হারিকেন হান্টারদের প্রায় ৩০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল পাওয়া গেছে। ঘূর্ণিঝড়টি যখন বাঁকানো বা হেলে থাকে, তখন সেটি সাধারণত খুব একটা শক্তি সঞ্চয় করতে পারে না। কিন্তু কোনো ঘূর্ণিঝড় যদি উল্লম্বভাবে বা সোজা অবস্থায় ফিরে আসে, তবেই সেটি দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠার সক্ষমতা অর্জন করে। গবেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়া বুঝতে পারাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের জীবন বাঁচাতে অতিরিক্ত সময়ের জোগান দিতে পারে। প্রধান গবেষক এবং রোজেনস্টিল স্কুলের বায়ুমণ্ডলীয় বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাইকেল এস ফিশার জানান, ঘূর্ণিঝড় তীব্র রূপ নেওয়ার আগে সেটির ঘূর্ণন কেন্দ্রকে উল্লম্বভাবে সোজা হতে হয়। বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরের শক্তিশালী বাতাস ঘূর্ণন কেন্দ্রকে সমুদ্রপৃষ্ঠের কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেয়, ফলে যতক্ষণ না কেন্দ্রগুলো পুনরায় একীভূত হয়, ততক্ষণ ঘূর্ণিঝড়টি বড় আকারে শক্তিশালী হতে পারে না। গবেষণায় ঘূর্ণিঝড়ের সোজা হওয়ার পেছনে চারটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথমত, সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি নিবিড় ও সুসংগঠিত ঘূর্ণন। দ্বিতীয়ত, উল্লম্ব বায়ু প্রবাহের (উইন্ড শিয়ার) সাপেক্ষে ঘূর্ণিঝড়ের হেলানো অবস্থার অনুকূল অবস্থান। তৃতীয়ত, ঘূর্ণিঝড়ের নিম্নস্তরের কেন্দ্রের কাছে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী বাতাস ও ভারি বৃষ্টিপাত। চতুর্থত, উষ্ণ সমুদ্রের পানি, প্রচুর বায়ুমণ্ডলীয় আর্দ্রতা এবং বায়ুমণ্ডলের মধ্যস্তরে তুলনামূলক দুর্বল বাতাস। গবেষকরা ১৯৯৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১,৫১০টি রাডার বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, যে ঘূর্ণিঝড়গুলো পরবর্তীতে শক্তিশালী হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে ২৪ ঘণ্টা আগে থেকেই নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ ফুটে উঠেছিল। এই গবেষণার ফলাফল আবহাওয়া পূর্বাভাসদাতাদের জন্য সহায়ক হবে, যাতে তারা কোনো ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগেই সেটির শক্তি বৃদ্ধির প্রবণতা সঠিকভাবে বুঝতে পারেন এবং দ্রুত সতর্কবার্তা প্রচারের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারেন।