সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গার জানিয়েছেন, ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল করা ছিল সময়ের দাবি ও অপরিহার্য। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সংস্থাটির প্রধান ইভেন্টগুলো পরিচালনার জন্য একটি বাণিজ্যিক সাবসিডিয়ারি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যেখানে বাইরের বিনিয়োগকারীরা অংশীদার হতে পারতেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে ৪০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।
তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ইউরোপের উয়েফাভুক্ত ৫৫টি দেশ ফিফার সব টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকি দিলে ইনফান্তিনো পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। ওয়েঙ্গার জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের বিষয়ে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমেই তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি আরও বলেন, স্বচ্ছতা ও সততা বজায় রেখে ফিফার স্বাধীন থাকাটাই কাম্য।
জর্ডানের প্রিন্স আলী ফিফার নেতৃত্বের সমালোচনা করে অভিযোগ তুলেছেন যে, জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পাওনা অর্থ আটকে রেখে ফিফা অনৈতিকভাবে ইনফান্তিনোর পক্ষে সমর্থনের চেষ্টা করছে। তিনি একে ব্ল্যাকমেইল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অন্যদিকে, ফিফার সেক্রেটারি জেনারেল ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রোম অভ্যন্তরীণ এক বার্তায় গত সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহকে দুঃখজনক ও হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেছেন।
এই ঘটনার জেরে ফিফার সিনিয়র উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো পদত্যাগ করেছেন। তিনি এটিকে ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য একটি খারাপ চুক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। ওয়েঙ্গার ছাড়াও উয়েফার আইনি নোটিশে নাম থাকা ১৮ জন ফিফা কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন অনেকেই। জর্ডানের প্রিন্স আলী আরও অভিযোগ করেন যে, তার দেশের সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতেও বাধা দেওয়া হয়েছে। এসব বিতর্কের মাঝে ফিফার নেতৃত্ব এবং স্বচ্ছতা নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।