পোল্যান্ডের রোক্ল মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানিয়েছেন, কফি পানের অভ্যাস সরাসরি ঘুম না কমালেও ঘুমের মান কমিয়ে দিতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নার্সিং বিভাগের অধ্যাপক ডোনাটা কুরপাস এই গবেষণার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। ঘুমের সময় মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ বা ইইজি (EEG) পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ক্যাফেইন সেবনের ফলে গভীর ঘুমের সময় মস্তিষ্কের যে তরঙ্গ তৈরি হওয়ার কথা, তা বাধাগ্রস্ত হয়।
গবেষকদের মতে, একজন মানুষ আট ঘণ্টা বিছানায় সময় কাটানোর পরেও তিনি পুরোপুরি বিশ্রাম নাও পেতে পারেন। অনেকে মনে করেন কফি পান করলেও যেহেতু তারা স্বাভাবিক সময়ে ঘুমাতে যাচ্ছেন এবং গভীর রাতে জেগে উঠছেন না, তাই তাদের ঘুম ঠিকঠাক হচ্ছে। কিন্তু ইইজি রেকর্ডিং বলছে, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ঘুমের ভেতরেও যথেষ্ট সচল থেকে যায়, যা গভীর ঘুমের মান কমিয়ে দেয়।
কেন ঘুম ব্যাহত হয়
গভীর ঘুম শারীরিক পুনরুদ্ধারের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই সময়ে শরীর ও মস্তিষ্ক নিজেদের মেরামত করে এবং শক্তির রিজার্ভ পূরণ করে। ক্যাফেইন এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায়। অধ্যাপক কুরপাসের ভাষ্যমতে, ঘুমের ব্যাপ্তি ঠিক থাকলেও ক্যাফেইনের প্রভাবে মস্তিষ্ক গভীর ঘুমের পরিবর্তে কিছুটা জাগ্রত অবস্থায় থাকে। এটি ঘুমের গভীরতা কমিয়ে দেয়।
ব্যক্তিভেদে ক্যাফেইনের প্রভাব ভিন্ন হয়। মানুষের জেনেটিক গঠন, বিপাক প্রক্রিয়া, বয়স, মানসিক চাপ এবং দীর্ঘদিনের ক্লান্তির ওপর নির্ভর করে ক্যাফেইন শরীরের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে। কারও ক্ষেত্রে দিনের শুরু বা দুপুরের দিকে কফি পান করলেও তা রাতের ঘুমের মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ক্লান্তির চক্র
অনেকে কর্মক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কফির ওপর নির্ভর করেন। গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এটি একটি দুষ্টচক্রে পরিণত হতে পারে। কফি তাৎক্ষণিক উদ্দীপনা দিলেও তা রাতের ঘুমের মান কমিয়ে দেয়। ফলে পরের দিন ব্যক্তি আরও বেশি ক্লান্তি অনুভব করেন এবং সেই ক্লান্তি দূর করতে আবারও ক্যাফেইনের শরণাপন্ন হন। বিশেষজ্ঞের মতে, ক্যাফেইন ভালো বা মন্দ কোনোটিই নয়; এর প্রভাব নির্ভর করে ব্যক্তিভেদে গ্রহণের সময় এবং পরিমাণের ওপর।