যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলার প্রতিশোধ নিতে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করায় তেহরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে। একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই পাল্টা হামলাগুলো অঞ্চলটিকে একটি বড় ধরনের সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সংক্ষেপে যা জানা গেছে
- ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাণিজ্যিক জাহাজ পরিত্যাগের পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেয়।
- এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান তার প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে।
- তেহরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে।
- পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ভয়াবহ অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ইরান সরকার রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে সমস্ত নৌ চলাচল আপাতত বন্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে তেহরান উল্লেখ করেছে তাদের ওপর চালানো যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার বিষয়টি। ঘটনাপ্রবাহের সূত্রপাত হয় যখন ইরানের বাহিনী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ চালায়। জাহাজটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এর ক্রু সদস্যরা সেটিকে মাঝসমুদ্রে পরিত্যক্ত অবস্থায় রেখে প্রাণ বাঁচান।
এই ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবস্থানের ওপর পাল্টা বিমান হামলা ও সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের দ্রুত জবাব দিতে ইরান তার মিত্রহীন ও প্রতিবেশী দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই আকস্মিক ও তীব্র আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়ায় পুরো অঞ্চলের আকাশপথ ও সমুদ্রপথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সাধারণ যাত্রী ও পণ্যবাহী জাহাজগুলো এখন চরম নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষণ
বর্তমান পরিস্থিতি কেবল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি অশনিসংকেত। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথ, যেখান দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল সরবরাহ হয়। ইরান এই পথ বন্ধ করে দেওয়ার অর্থ হলো আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের এই কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের ওপর কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। তবে এই সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা কেবল এই অঞ্চলেই নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ ধস নামাতে সক্ষম। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: rfi.fr