যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ভার্জ-এর প্রযুক্তি বিশ্লেষক আন্তোনিও জি. দি বেনেদেতো ৪৫০ ডলার মূল্যের নতুন ল্যাপটপ ‘চুউই ইউনিবুক’ (Chuwi Unibook) পরীক্ষা করে দেখেছেন যে এটি কি আসলেই সাশ্রয়ী নাকি কেবল সস্তা মানের। ল্যাপটপ বাজারে যখন দামের ঊর্ধ্বগতি চলছে, তখন নতুন এই ডিভাইসটি বাজারে আসার পরপরই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ইউনিবুক ল্যাপটপটিতে রয়েছে ইন্টেল কোর ৩ ৩০৪ প্রসেসর, ৮ জিবি র্যাম এবং ২৫৬ জিবি এসএসডি। ল্যাপটপটিতে পর্যাপ্ত পোর্ট এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারির সুবিধা থাকলেও, এর ডিসপ্লে, ট্র্যাকপ্যাড, স্পিকার এবং ওয়েবক্যামের মান অত্যন্ত দুর্বল।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৮ জিবি র্যাম উইন্ডোজ ১১ অপারেটিং সিস্টেমের জন্য অপর্যাপ্ত। সামান্য মাল্টিটাস্কিং বা ব্রাউজারে কয়েকটি ট্যাব খুললেই ল্যাপটপটি ধীরগতি হয়ে পড়ে। এছাড়া এর ট্র্যাকপ্যাড ব্যবহারের অভিজ্ঞতা এতটাই কঠিন যে তা ব্যবহারকারীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলতে পারে।
ইউনিবুকের পর্দার উজ্জ্বলতা ও কালার কোয়ালিটিও মানসম্মত নয়। এর ভিডিও রেন্ডারিং সক্ষমতাও খুবই দুর্বল; একটি ভিডিও এক্সপোর্ট করতে যেখানে অন্যান্য আধুনিক ল্যাপটপ ১০ মিনিটের কম সময় নেয়, সেখানে ইউনিবুকের এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে।
চুউই ব্র্যান্ডটির দীর্ঘমেয়াদী গ্রাহক সেবা এবং মেরামতের নিশ্চয়তা নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে উদ্বেগ রয়েছে। অতীতে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে পুরোনো চিপসেটকে নতুন হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার মতো অভিযোগও উঠেছে। সামগ্রিকভাবে, ইউনিবুক ল্যাপটপটি দামে সাশ্রয়ী মনে হলেও এর দুর্বল পারফরম্যান্স এবং নিম্নমানের হার্ডওয়্যারের কারণে এটি ব্যবহারকারীদের জন্য একটি হতাশাজনক অভিজ্ঞতা হতে পারে।