যুক্তরাজ্যের রেলপথে গত এক বছরে সহিংস হামলা ও হয়রানির ঘটনা ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। রেল নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফিস অব রেল অ্যান্ড রোড (ওআরআর) জানিয়েছে, গত মার্চ মাস পর্যন্ত মূল ধারার রেলওয়েতে যাত্রী ও সাধারণ মানুষের ওপর ১৩ হাজার ৪৬৪টি হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০০৪ সালের তথ্য সংগ্রহের পর থেকে সর্বোচ্চ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় হয়রানির ঘটনা ৫২ শতাংশ এবং সাধারণ হামলার ঘটনা ৩০ শতাংশ বেড়েছে। বিগত পাঁচ বছর ধরেই এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। মূল ধারার রেলওয়ে কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ১২ শতাংশ বেড়ে ১১ হাজার ২৮৯টিতে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৮৭টি শারীরিক হামলা এবং ৬ হাজার ৩৯০টি মৌখিক অপব্যবহারের ঘটনা রয়েছে।
ওআরআর-এর প্রধান রেল পরিদর্শক রিচার্ড হাইনস জানিয়েছেন, তারা রেল শিল্প ও ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে মিলে কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা রোধে কাজ করছেন। তিনি জানান, ঝুঁকি শনাক্তকরণ, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডের ক্ষেত্রে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। সেখানে যাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনা ২০ শতাংশ বাড়লেও কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ৩ শতাংশ কমেছে। নেটওয়ার্ক রেল এবং ট্রেন পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোর মুখপাত্র জানিয়েছেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন এবং বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের মতো পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
এদিকে রেল শ্রমিকদের সংগঠন আরএমটি ইউনিয়ন এই পরিসংখ্যানের সত্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এডি ডেম্পসি বলেন, তাদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য কর্মক্ষেত্রে সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তিনি গণপরিবহনে কর্মী সংখ্যা বাড়ানো, একাকী কাজ বন্ধ করা এবং কর্মীদের জন্য কঠোর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের তহবিল কাটছাঁটের সমালোচনা করে তিনি নিরাপত্তা কর্মীদের সরাসরি নিয়োগের আহ্বান জানান।
এই পরিসংখ্যানে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের মূল ধারার রেলসেবা এবং লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড ও ট্রাম অন্তর্ভুক্ত থাকলেও উত্তর আয়ারল্যান্ড এর আওতামুক্ত। এছাড়া গত বছর লেভেল ক্রসিংয়ে ১১ জনের মৃত্যুর তথ্যও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ছয়টি বেশি।