বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের দপ্তরে প্রশাসনিক কাজে অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত উচ্চমান সহকারী মো. ইছরাইল মিয়ার বিরুদ্ধে রেলপথ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের ১৭টি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ঐক্য পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার পক্ষ থেকে এই অভিযোগ করা হয়, যেখানে তারা বিভাগীয় তদন্ত ও ইছরাইল মিয়ার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, টাইমকিপার পদের ইছরাইল মিয়াকে নিয়মবহির্ভূতভাবে উচ্চমান সহকারীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, সার্ভিস বুক সংরক্ষণ, পে-ফিক্সেশন, টিএ বিল পাস, ছুটি অনুমোদন এবং অবসর ও পারিবারিক পেনশনের ফাইল নিষ্পত্তির বিনিময়ে নিয়মিত ঘুষ দাবি করা হতো। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা এবং টাকা দিলে দ্রুত নিষ্পত্তির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কর্মচারীরা।
এ ছাড়া ইছরাইল মিয়ার বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে আখাউড়ায় জমি কেনা ও বাড়ি নির্মাণের তদন্ত দাবি করা হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পদোন্নতি পাওয়া হেমারম্যান মো. তাজুল ইসলামের বেতন ফিক্সেশন আড়াই বছরেও সম্পন্ন না হওয়ার পাশাপাশি ছুটি অনুমোদনের জন্য টাকা দাবির অভিযোগও উঠে এসেছে।
এই বিষয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী-২, ঢাকা আহসান হাবিব জানান, ইছরাইল মিয়াকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে উচ্চমান সহকারীর কাজ দেওয়া হয়েছে, যার জন্য তিনি কোনো বাড়তি আর্থিক সুবিধা পান না। তবে আখাউড়ার সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু হানিফ পাশা জানিয়েছেন, এই নিয়োগের বিষয়টি ঢাকা অফিস থেকে নিয়ন্ত্রিত।
অভিযুক্ত মো. ইছরাইল মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও হয়রানির সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।