সৌদি আরবের জাজান শহরে আরামকো তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, ইয়েমেনের হাজ্জাহ ও সা’দা প্রদেশে সৌদি ড্রোন প্রবেশের প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনা ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধকে নতুন করে উসকে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরামকোর একটি স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী আন্ডার সেক্রেটারি ফায়েদ আল-নোমান জানিয়েছেন, হুথিরা মোখা বন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
ইরানের কঠোর অবস্থান
তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় চললেও আনুষ্ঠানিক আলোচনা পুনরায় শুরু করা সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, সমঝোতা স্মারকের শর্ত ভঙ্গ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যতক্ষণ না ওয়াশিংটন নিজেদের আচরণ সংশোধন করছে এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ অন্যান্য দাবি পূরণ করছে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করেছে দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল।
অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে দ্রুত অস্ত্র উৎপাদনের নির্দেশ দিয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুদ কমে এসেছে। তাই যুদ্ধের প্রয়োজনে দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করতে পেন্টাগন আধুনিকায়ন ও উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে।
ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট রুট দিয়ে কোনো টোল ছাড়াই জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তবে এই চুক্তির চূড়ান্ত রূপ এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থার মাধ্যমে ঘোষণার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।