যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) তাদের আকাশপথ ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজানোর ঘোষণা দিয়েছে। এফএএ প্রধান ব্রায়ান বেডফোর্ড জানিয়েছেন, বর্তমানের অসংগঠিত আকাশপথ ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও আধুনিক করতে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রেডিক্টিভ অ্যানালিটিক্স প্রযুক্তির সহায়তা নেবেন।
আলাস্কা এয়ারলাইন্সের কার্যকর অভিজ্ঞতা থেকে এই নতুন উদ্যোগটি অনুপ্রাণিত। সিয়াটল-টাকোমা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত আলাস্কা এয়ারলাইন্সের নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টারের ডিসপ্যাচাররা ‘ফ্লাইওয়েজ এআই’ (Flyways AI) নামের একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করছেন। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে রিয়েল-টাইম আবহাওয়া, বাতাসের গতিপ্রকৃতি এবং আকাশপথের ট্রাফিক বিশ্লেষণ করে পাইলটদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও জ্বালানি সাশ্রয়ী রুট নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে। এয়ারলাইন্সটি দাবি করেছে, এই প্রযুক্তির কল্যাণে তারা প্রতি বছর হাজার হাজার ঘণ্টা সাশ্রয় ও প্রায় ১০ লাখ গ্যালন জ্বালানি কম খরচ করছে।
এফএএ এখন এই প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘এয়ার স্পেস ইন্টেলিজেন্স’-এর সাথে ৮৭৫ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করেছে। এর মাধ্যমে ‘স্মার্ট’ (SMART) নামক একটি নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যা দিয়ে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথের রুট ও ট্র্যাজেক্টরি ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হবে।
এফএএ কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এই প্রযুক্তির লক্ষ্য এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলারদের প্রতিস্থাপন করা নয়, বরং তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও তথ্যনির্ভর করা। তবে আকাশপথের মতো অত্যন্ত জটিল ও বিশাল এই নেটওয়ার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্কেলেবিলিটি বা কার্যকারিতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট অনেক বিশেষজ্ঞ এখনো সংশয় প্রকাশ করছেন।
আলাস্কা এয়ারলাইন্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্যাপ্টেন ব্রেট পেইলটন জানান, শুরুতে তাদের ডিসপ্যাচারদের মধ্যেও প্রযুক্তিটি নিয়ে দ্বিধা ছিল। কিন্তু সফটওয়্যারটির সঠিক ফলাফল ও উপযোগিতা দেখার পর তারা দ্রুতই এর ওপর আস্থা অর্জন করেছেন। এখন ডেল্টা, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সসহ মার্কিন সামরিক বাহিনীও একই ধরণের প্রযুক্তি ব্যবহারের পথে হাঁটছে।