হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির দায়ে ইরানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান নতুন সংঘাতের জেরে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পশ্চিমা এই তিন শক্তির বিবৃতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সংক্ষেপে যা জানা গেছে
- হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা ও হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য।
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ায় দীর্ঘদিনের শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
- ইরানের আঞ্চলিক অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে পশ্চিমা শক্তিগুলো।
- দুই দেশের এই নতুন সংঘাত উত্তেজনা প্রশমনের সব চেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
সম্প্রতি ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথে ইরানের সাম্প্রতিক আগ্রাসী কর্মকাণ্ড বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিবৃতিটিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ইরানের এই ধরনের আচরণ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে এবং প্রতিবেশি দেশগুলোর নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
ইউরোপীয় এই তিন দেশের প্রতিক্রিয়ার মূল কারণ হলো, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনা। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে সরাসরি পাল্টা হামলা চালিয়েছে, যা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান সমঝোতা আলোচনা, যা যুদ্ধের অবসানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করছিল, তা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই উত্তজনা দীর্ঘদিনের শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর বড় ধরণের আঘাত হেনেছে।
বিশ্লেষণ
বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে একটি নাজুক মোড় তৈরি করেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই ছায়াযুদ্ধ সরাসরি সংঘাতে রূপ নিলে তা কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বিশ্বের তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হওয়ায়, সেখানে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা তেলের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।
ইউরোপীয় শক্তিগুলোর এই অবস্থানের ফলে ইরান এখন আন্তর্জাতিক মহলে আরও কোণঠাসা হতে পারে। তারা একদিকে যেমন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে রয়েছে, অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সম্পর্ক খারাপ হওয়ায় কূটনৈতিক পরিসরও ছোট হয়ে আসছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে ‘অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি’ বা বোঝাপড়ার একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সংঘাতের ফলে তা এখন কার্যত কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে কূটনীতির চেয়ে অস্ত্রের ভাষা আবারও প্রাধান্য পাচ্ছে।
সূত্র: rfi.fr