প্রায় চার দশকের বেশি সময় ধরে চলা বৈরী সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদে মদদদানকারী রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠনে মার্কিন বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত হলো, যা সিরিয়ার ভঙ্গুর অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
সংক্ষেপে যা জানা গেছে
- ৪৭ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত কালো তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে।
- এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য সিরিয়ায় ব্যবসা ও বিনিয়োগের আইনি বাধা দূর হলো।
- দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় পর্যুদস্ত সিরিয়ার জন্য এটি একটি বড় কূটনৈতিক জয়।
- সিরিয়ার বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
- এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
১৯৭৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতাকারী দেশগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে রেখেছিল। দীর্ঘ ৪৭ বছর পর বাইডেন প্রশাসন এই তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম সরানোর ঘোষণা দিয়েছে। ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক বড় বিস্ময় হিসেবে দেখা দিয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে চলা গৃহযুদ্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার কারণে সিরিয়ার অর্থনীতি বর্তমানে ধ্বংসের মুখে। মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে সিরিয়ার ওপর আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো শিথিল হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং শিল্প খাতে মার্কিন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। তবে সিরীয় সরকারের ওপর মানবাধিকার সংক্রান্ত অন্যান্য কঠোরতা বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। তবুও মার্কিন ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর জন্য সিরিয়ার বাজার উন্মুক্ত হওয়া দেশটির জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষণ
যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলগত পরিবর্তনের পেছনে বেশ কিছু গভীর কারণ রয়েছে। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার প্রভাব সীমিত করার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন সিরিয়াকে পশ্চিমা ধারার কাছাকাছি আনার চেষ্টা করছে। দ্বিতীয়ত, সিরিয়ার বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট এতটাই প্রকট যে, দেশটি চরম অস্থিতিশীলতার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা পুরো আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করার মাধ্যমে সিরিয়াকে একটি টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামোর দিকে ঠেলে দেওয়া মার্কিন কৌশলের অংশ হতে পারে। তবে এই সিদ্ধান্ত দেশটিতে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে কি না, তা এখন দেখার বিষয়। এছাড়া, ইরান ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত আসাদ সরকার মার্কিন বিনিয়োগের শর্তাবলি কীভাবে গ্রহণ করে, সেটিই হবে আগামী দিনের ভূ-রাজনীতির মূল বিবেচ্য বিষয়। এই কূটনৈতিক চাল মধ্যপ্রাচ্যের নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে যেখানে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নিরাপত্তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: rfi.fr