কানাডার ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয় এবং পেরিমিটার ইনস্টিটিউটের গবেষকদের পরিচালনায় বিশ্বজুড়ে পদার্থবিজ্ঞানীদের ওপর চালানো বৃহত্তম এক জরিপে দেখা গেছে, মহাবিশ্বের মৌলিক রহস্যগুলো নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য রয়ে গেছে। পেরিমিটার ইনস্টিটিউটের ফ্যাকাল্টি সদস্য এবং ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নায়েশ আফশোর্দি জানান, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অধিকাংশ তত্ত্বে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বড় ধরনের কোনো ঐকমত্য নেই। এই গবেষণার ফলাফল নির্দেশ করে যে, পদার্থবিজ্ঞানের নতুন আবিষ্কারের দুয়ার এখনো অবারিত।
জরিপে দেখা গেছে, মহাবিশ্বের প্রচলিত মডেল বা ল্যাম্বডা কোল্ড ডার্ক ম্যাটার (Lambda Cold Dark Matter) তত্ত্বটির পেছনে অধিকাংশ বিজ্ঞানীর সমর্থন নেই। ডার্ক এনার্জি সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে—সম্প্রতি ডার্ক এনার্জি স্পেকট্রোস্কোপিক ইনস্ট্রুমেন্টের (DESI) এমন ইঙ্গিত পাওয়ার পর প্রচলিত মডেলে অবিশ্বাসের মাত্রা বেড়েছে।
বিগ ব্যাং নিয়ে বিজ্ঞানীদের মতামতে ভিন্নতা থাকলেও জরিপে অংশ নেয়া ৬৮ শতাংশ পদার্থবিজ্ঞানী মনে করেন, বিগ ব্যাং মানেই সময়ের শুরু নয়। এটি কেবল মহাবিশ্ব যে অত্যন্ত ঘন ও উত্তপ্ত অবস্থা থেকে বিকশিত হয়েছে, তার একটি বিবরণ মাত্র। এছাড়া মহাজাগতিক স্ফীতির (Cosmic inflation) বিষয়টি নিয়ে মাত্র ৫১ শতাংশ বিজ্ঞানী একমত প্রকাশ করেছেন।
ডার্ক ম্যাটার এবং কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও কোনো একক সিদ্ধান্ত বা তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ডার্ক ম্যাটারের স্বরূপ নিয়ে গবেষকদের মত বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত। একইভাবে কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটির ক্ষেত্রে স্ট্রিং থিওরি বা লুপ কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটির কোনোটিই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পায়নি।
অধ্যাপক নায়েশ আফশোর্দি এই অমিমাংসিত অবস্থাকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন না। তিনি বলেন, ঐকমত্যের অভাব আমাদের বলে দেয় যে কোন জায়গাগুলোতে আরও গভীর গবেষণার প্রয়োজন। এই সীমাবদ্ধতাই নতুন পর্যবেক্ষণ এবং বৈপ্লবিক আবিষ্কারের পথ খুলে দিতে পারে বলে গবেষকরা মনে করছেন।