যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান জিস্কেইলারের থ্রেটল্যাবজ তাদের নতুন গবেষণায় জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে র্যানসামওয়্যার হামলাকারীরা বর্তমানে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি নির্দিষ্ট র্যানসামওয়্যার ক্যাম্পেইনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশই ছিলেন ব্যবস্থাপক বা তার চেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভাণ্ডারে সহজ প্রবেশাধিকার ও বিশেষ সুবিধাসমূহ থাকায় হ্যাকাররা তাদের টার্গেট করছে।
জিস্কেইলারের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা মূলত ওইসব ব্যবস্থাপকদের লক্ষ্য করে যারা অর্থায়ন, বিক্রয়, অপারেশন, মানবসম্পদ বা বিপণন বিভাগে কর্মরত। গবেষণায় এক মাসে ৩৩৪টি প্রতিষ্ঠানের ৩৫১ জন ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এই আক্রমণের অন্যতম কারণ হলো, একজন ব্যবস্থাপকের অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলে হ্যাকাররা সহজেই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন অনুমোদন, বাজেট নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন বিভাগের মধ্যকার যোগাযোগের তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে।
কেন ব্যবস্থাপকরা ঝুঁকিতে
গবেষণা অনুযায়ী, ব্যবস্থাপকদের ব্যক্তিগত বা পেশাদার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে তা পুরো প্রতিষ্ঠানের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনে। উদাহরণস্বরূপ, বিক্রয় ব্যবস্থাপকের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ও রাজস্ব পূর্বাভাসের মতো গোপনীয় নথি বেহাত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। একইভাবে হিসাবরক্ষণ বা প্রজেক্ট ব্যবস্থাপকদের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে হ্যাকাররা বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতি বা প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
প্রতিরোধের উপায়
প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে ছয়টি পরামর্শ দিয়েছে থ্রেটল্যাবজ। এর মধ্যে রয়েছে মাইক্রোসফট টিমস বা স্ল্যাকের মতো প্ল্যাটফর্মে অপরিচিত ব্যক্তির বার্তা বা কল ব্লক করা এবং আইটি বিভাগের নামে আসা ভুয়া অনুরোধ যাচাই করা। পাশাপাশি এআই-চালিত নেটওয়ার্ক সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রতিটি কর্মীর জন্য কেবল প্রয়োজনীয় ডেটায় সীমাবদ্ধ অ্যাক্সেস নিশ্চিত করা (লিস্ট-প্রিভিলেজ) এবং জিরো ট্রাস্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণ করার সুপারিশ করা হয়েছে।