সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থানরত এনক্রিপশন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান প্রোফনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ডি ইয়েন জানিয়েছেন, আধুনিক বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা একে অপরের পরিপূরক হয়েই টিকে থাকবে। এআই প্রযুক্তির অবাধ প্রসার যে হারে ব্যক্তিগত তথ্যের নজরদারি বাড়াচ্ছে, তাতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অ্যান্ডি ইয়েন বলেন, বর্তমান ইন্টারনেট ব্যবস্থায় করপোরেট নজরদারি এক বিশাল আকার ধারণ করেছে। গুগল বা মেটার মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করে, যা ব্যবহারকারীর গোপনীয়তাকে হুমকির মুখে ফেলে। এই পরিস্থিতিতে প্রোফন এমন এক বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করছে, যেখানে এআই ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যবহারকারীর তথ্যের ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
প্রোফনের এআই কৌশল
প্রোফন সম্প্রতি তাদের এআই চ্যাটবট ‘লুমো’ উন্মোচন করেছে। অ্যান্ডি ইয়েন স্বীকার করেছেন যে, এআই প্রযুক্তি বর্তমানে নজরদারির অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে তিনি মনে করেন, প্রাইভেসি-কেন্দ্রিক কোম্পানিগুলো যদি এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ না করে, তবে তথ্যের ওপর অধিকার হারানোর ঝুঁকি বাড়বে। তার মতে, এআই এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়, তাই গোপনীয়তা রক্ষা করে কীভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়, সেই পথ খুঁজছে প্রোফন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও নজরদারি
রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকারি নজরদারি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইয়েন। তিনি জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প বা জো বাইডেন—উভয় প্রশাসনের আমলেই নজরদারির প্রবণতা ছিল। কোনো রাজনৈতিক পক্ষই তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখেনি। ইউরোপে ‘চ্যাট কন্ট্রোল’-এর মতো আইনগুলো ব্যক্তিগত এনক্রিপশন ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রোফনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নিয়ে অ্যান্ডি ইয়েন বলেন, এটি কোনো প্রচলিত মুনাফাভিত্তিক করপোরেট প্রতিষ্ঠান নয়। একটি অলাভজনক ফাউন্ডেশনের অধীনে নিয়ন্ত্রিত এই কোম্পানিটি মূলত গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও গোপনীয়তা রক্ষার মিশনে কাজ করছে। আগামী দিনে স্লাক বা ডিসকর্ড-এর মতো যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর বিকল্প হিসেবে প্রোফন আরও উন্নত এনক্রিপশন সেবা নিয়ে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।