যুক্তরাজ্যের এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে এমন এক নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছেন, যা আলঝেইমার, পারকিনসন্স, হান্টিংটন ও মোটর নিউরন ডিজিজের (এমএনডি) মতো দুরারোগ্য ব্যাধি নিরাময়ে নতুন আশা দেখাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. ক্যাটলিন ও’শিয়া এবং ড. গ্যারেথ রাইট এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন।
গবেষকরা সাধারণ অ্যান্টিবডিকে এমন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মলিকিউলে রূপান্তর করেছেন, যা মানবকোষের ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম। এই নতুন অণুগুলোকে তারা ‘ইন্ট্রাবডিস’ হিসেবে অভিহিত করছেন। এগুলো কোষের ভেতরে ঢুকে রোগ সৃষ্টিকারী প্রোটিনগুলোকে শনাক্ত ও আক্রমণ করতে পারে।
সাধারণ অ্যান্টিবডি সাধারণত কোষের বাইরে কাজ করে। কিন্তু এআই প্রযুক্তির সহায়তায় গবেষকরা অ্যান্টিবডির বৈদ্যুতিক চার্জ পরিবর্তন করে সেগুলোকে কোষের ভেতরে স্থিতিশীল রাখার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। এর মাধ্যমে ৬৭২টি ভিন্ন অ্যান্টিবডিকে ইন্ট্রাবডিতে রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছে।
ড. গ্যারেথ রাইট জানান, স্নায়ুক্ষয়জনিত রোগগুলো বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের জীবনের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এখন পর্যন্ত এগুলোর কোনো কার্যকর নিরাময় নেই। এই নতুন উদ্ভাবন রোগ সৃষ্টিকারী প্রোটিনগুলোর সঙ্গে সরাসরি লড়াই করতে বিজ্ঞানীদের নতুন পথ দেখাবে।
গবেষণাটি নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এখন এই প্রযুক্তি বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন। এমএনডি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান বিজ্ঞানী ড. ব্রায়ান ডিকি এই সাফল্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, জিন থেরাপির সঙ্গে এই ‘ইন্ট্রাবডি’ প্রযুক্তির সমন্বয় ভবিষ্যতে জটিল স্নায়ুরোগের চিকিৎসায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।