যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বেল ল্যাবসে ১৯৪৭ সালে উদ্ভাবিত ট্রানজিস্টর বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। লেখক রেট অ্যালেনের মতে, এই ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক সুইচটি ছাড়া আজকের আধুনিক ডিজিটাল জীবন কল্পনা করা অসম্ভব। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা এআই প্রযুক্তির মূলে রয়েছে ট্রানজিস্টর।
১৮০০ সালের দিকে টেলিগ্রাফ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইলেকট্রিক রিলে থেকে ট্রানজিস্টরের বিবর্তন শুরু হয়। রিলে ছিল মূলত একটি যান্ত্রিক সুইচ, যা বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দীর্ঘ দূরত্বে সংকেত পাঠাতে সাহায্য করত। এরপর ১৯০৫ সালের দিকে ভ্যাকুয়াম টিউব উদ্ভাবিত হয়। এটি রিলে থেকে উন্নত হলেও এর বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। ভ্যাকুয়াম টিউব প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ করত, অনেক তাপ উৎপন্ন করত এবং আকারে ছিল অনেক বড়। এছাড়া এগুলো বেশ ভঙ্গুর হওয়ায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হতো।
ট্রানজিস্টর এই সমস্যার সমাধান নিয়ে আসে। সিলিকনের মতো সেমিকন্ডাক্টর ব্যবহার করে তৈরি ট্রানজিস্টর কোনো যান্ত্রিক অংশ ছাড়াই বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এটি যেমন দ্রুত কাজ করতে সক্ষম, তেমনি এটিকে অত্যন্ত ক্ষুদ্রাকারে তৈরি করা যায়।
প্রাথমিক পর্যায়ে ট্রানজিস্টর রেডিওর আকার কমিয়ে এনেছিল। বর্তমানে আধুনিক স্মার্টফোনের প্রসেসরে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ট্রানজিস্টর থাকে, যা আমাদের বর্তমান কম্পিউটারনির্ভর বিশ্বের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।