যুক্তরাজ্যের নর্থ নরফোকের একটি পরিত্যক্ত কৃষি জমি দীর্ঘ সময় ফেলে রাখার ফলে সেখানে প্রাকৃতিকভাবেই সমৃদ্ধ বুনোফুলের চারণভূমি গড়ে উঠেছে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) অধ্যাপক কার্ল সেয়ার ও তার গবেষক দলের চালানো দীর্ঘ ১১ বছরের গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো ধরনের কৃত্রিম হস্তক্ষেপ ছাড়াই জমিটি তার হারানো জীববৈচিত্র্য ফিরে পেয়েছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালে ওই জমিতে সর্বশেষ ফসল ফলানো হয়েছিল। এরপর ২০১১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে বিজ্ঞানীরা সেখানে গাছপালার পরিবর্তনের ওপর নজর রাখেন। এই সময়ের মধ্যে সেখানে গাছের প্রজাতি দ্বিগুণ হয়েছে এবং হাজার হাজার অর্কিড প্রাকৃতিকভাবে জন্মেছে।
প্রথাগত পদ্ধতিতে জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারের জন্য বাণিজ্যিক বীজ বা ব্যয়বহুল ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় বলে মনে করা হয়। তবে এই গবেষণা সেই ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। গবেষকদের মতে, জমিটি ফেলে রাখার ফলে স্থানীয় জলবায়ুর সাথে মানিয়ে নেওয়া উদ্ভিদের জেনেটিক বৈচিত্র্য সংরক্ষিত হয়েছে, যা কৃত্রিমভাবে বীজ বপনের চেয়ে বেশি কার্যকর।
অধ্যাপক কার্ল সেয়ার জানান, প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা অনেক। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাকৃতিকভাবে অর্কিডসহ নানা বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ জন্মানোর ফলে জায়গাটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
এই সাফল্য পরিবেশ রক্ষায় একটি সহজ ও সাশ্রয়ী মডেল হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও পরাগায়নকারী পতঙ্গসহ বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থল তৈরিতে পরিত্যক্ত জমিগুলোকে প্রাকৃতিকভাবে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়া জরুরি।