যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় মানসিক চিকিৎসাকেন্দ্রে বন্দি থাকা এক অবৈধ অভিবাসী ও হত্যা মামলার আসামি তাজিকিস্তানে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ডোনাল্ড বেয়ার। তিনি একে প্রশাসনিক ব্যবস্থার বড় ধরনের ত্রুটি বলে উল্লেখ করেছেন।
আবদুল্লোই দানিওর তোশপুলেদজাদা নামের ওই ব্যক্তি তার বাড়িওয়ালাকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন। আদালতে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ফলস চার্চের নর্দার্ন ভার্জিনিয়া মেন্টাল হেলথ ইনস্টিটিউটে রাখা হয়েছিল। তবে সেখান থেকে তাকে বিশেষ নিরাপত্তায় বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, তোশপুলেদজাদাকে দুইবার বাইরে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। একবার পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য তাকে তাজিক দূতাবাসে নেওয়া হয় এবং অন্যবার তাকে আলেকজান্দ্রিয়ার একটি অ্যাপার্টমেন্টে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই তিনি তাজিকিস্তানে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে ডোনাল্ড বেয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের হেফাজত থেকে কোনো অভিযুক্তের পালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি মনে করেন, আইনি প্রক্রিয়ায় অথবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তায় কোথাও বড় ধরনের গলদ ছিল। তিনি বলেন, দোষী ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, কিন্তু এই ঘটনায় যথাযথ সতর্কতা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।
অন্য এক আইনপ্রণেতা সুহাস সুব্রামানিয়াম বলেন, সহিংস অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত। তবে অভিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রতিটি মামলা আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ফেইরফ্যাক্স কাউন্টির অ্যাটর্নি স্টিফেন ডেসকানোর মুখপাত্র জানিয়েছেন, দূতাবাস সফরের অনুমতি প্রদানের বিরোধিতা না করা হলেও তোশপুলেদজাদার মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি তারা সবসময় আদালতে নাকচ করে দিয়েছিলেন। পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।