যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে থ্রিডি প্রিন্টেড বন্দুক তৈরির ফাইল শনাক্তকারী সরকারি সফটওয়্যারকে অকার্যকর করার একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন কোডি উইলসন। ‘হকলিলাইজেশন’ (Hochulization) নামের এই টুলটির মাধ্যমে থ্রিডি প্রিন্টারে বন্দুকের নকশা ব্লক করার সরকারি প্রচেষ্টাকে বাধা দেওয়া সম্ভব বলে তিনি দাবি করেছেন। থ্রিডি প্রিন্টেড বন্দুকের বিস্তার রোধে বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ এবং এর পাল্টা প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লড়াইয়ে এটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকলের নামানুসারে এই টুলের নামকরণ করা হয়েছে। গভর্নর হকল এই বছরের শুরুতে নিউইয়র্কে নতুন থ্রিডি প্রিন্টারে বন্দুক শনাক্তকরণ সফটওয়্যার বাধ্যতামূলক করার আইন প্রণয়ন করেছিলেন। কোডি উইলসন তার এই কাজকে আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ইন্টারনেটে ওপেন-সোর্স থ্রিডি প্রিন্টিং প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করার কোনো অধিকার সরকারের নেই।
উইলসনের প্রতিষ্ঠান ‘ডিফেন্স ডিস্ট্রিবিউটেড’ বিশ্বের বৃহত্তম থ্রিডি বন্দুক ফাইল ভাণ্ডার ‘ডিইএফসিএডি’ (DEFCAD) পরিচালনা করে। সাধারণত বন্দুক শনাক্তকারী সিস্টেমগুলো ফাইলের অনন্য গাণিতিক মান বা ‘হ্যাশ’ (hash) দেখে সেগুলোকে চিহ্নিত করে। উইলসন দাবি করেছেন, তার নতুন টুল প্রতিটি ফাইলের সাথে বাড়তি কিছু তথ্য যুক্ত করে সেটির হ্যাশ পরিবর্তন করে দেয়, যার ফলে শনাক্তকরণ সফটওয়্যার ফাইলটিকে বন্দুক হিসেবে চিনতে পারে না। তবে প্রিন্টেড যন্ত্রাংশটি তার কাজের সক্ষমতা বজায় রাখে।
বর্তমানে নিউইয়র্ক ছাড়াও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যে থ্রিডি প্রিন্টারে ফাইল-ব্লকিং সফটওয়্যার বাধ্যতামূলক করার আইন নিয়ে কাজ চলছে। উইলসন তার প্রযুক্তিকে ওপেন সোর্স করার পরিকল্পনা করছেন, যাতে যে কেউ তাদের নিজস্ব ফাইলের শনাক্তকরণ এড়াতে এটি ব্যবহার করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রযুক্তি নীতি-নির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। ডার্টমাউথ কলেজের প্রকৌশলবিদ্যার সহযোগী অধ্যাপক সলোমন ডায়মন্ডের মতে, প্রযুক্তিগতভাবে এই টুল শনাক্তকরণ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে পারলেও সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এটি বড় বাধা হতে পারে। তবে এই লড়াই থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের ভবিষ্যৎ এবং ডিজিটাল নজরদারি নিয়ে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।