অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী এইচ৫এন১ (H5N1) বার্ড ফ্লু। এই ভাইরাস সংক্রমণ রুখতে বাড়ির আঙিনায় রাখা পাখির খাবার পাত্র বা ফিডার সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এসব ফিডার বিভিন্ন প্রজাতির পাখিকে একত্রে জড়ো করে, যা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি এক হাজারেরও বেশি ক্রেস্টেড টার্ন পাখি এবং একটি লং-নোজড ফার সিলের মৃত্যু হয়েছে, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে ভাইরাসটি বন্যপ্রাণীর মধ্যে কতটা মারাত্মক হয়ে উঠছে।
বাড়ির আঙিনায় পাখি খাওয়ানো অস্ট্রেলিয়ার মানুষের একটি জনপ্রিয় শখ। তবে এই শখ এখন বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যখন মানুষ বীজ বা মাংসের টুকরো ছড়িয়ে দেয়, তখন বিভিন্ন প্রজাতির পাখি সেখানে ভিড় করে। এটি এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করে যা প্রকৃতিতে সাধারণত ঘটে না। এর ফলে সংক্রমিত পাখি থেকে সুস্থ পাখির শরীরে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্য পাখিদের খাবার দেওয়া বন্ধ করাই এখন সবচেয়ে নিরাপদ কৌশল। তাদের মতে, পাখিরা বেশিরভাগ পুষ্টি প্রকৃতি থেকে নিজেরাই সংগ্রহ করতে পারে, তাই মানুষের দেওয়া খাবার তাদের জন্য অপরিহার্য নয়।
তবে যারা খাবার দেওয়া বন্ধ করতে পারছেন না, তাদের জন্য কিছু সতর্কতামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
১. খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিন, যাতে খুব বেশি পাখি একসাথে জড়ো না হয়।
২. সরাসরি হাত দিয়ে পাখি খাওয়ানো পুরোপুরি বন্ধ করুন।
৩. পাখির খাবার পাত্র ও আশেপাশের জায়গা নিয়মিত জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার রাখুন।
পাখির মাধ্যমেই শুধু নয়, মৃত পাখির দেহাবশেষ খাওয়ার মাধ্যমে শেয়াল বা অপসামের মতো প্রাণীও ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হতে পারে। মানুষের মধ্যেও এটি সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও তা বিরল। তাই কোনো অসুস্থ বা মৃত পাখি দেখলে তাকে স্পর্শ না করে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।