যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানীদের নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা দল পৃথিবী থেকে ১১৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত একটি গ্যালাক্সির চারপাশে তারার একটি ক্ষীণ স্রোত বা ‘স্টেলার স্ট্রিম’ শনাক্ত করেছে। এটিই আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির বাইরে আবিষ্কৃত প্রথম গ্লোবুলার ক্লাস্টার স্টেলার স্ট্রিম। মহাকাশের অদৃশ্য ডার্ক ম্যাটার বা গুপ্ত পদার্থ কীভাবে কাজ করে, তা জানার জন্য এই আবিষ্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন গবেষকরা।
গবেষক দলের সদস্য ও নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী টিটস্কে স্টারকেনবার্গ জানান, তারার এই স্রোতগুলো গ্যালাক্সির অভিকর্ষ বলের প্রভাবে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে। এই কক্ষপথের গঠন বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ওই গ্যালাক্সির মোট ভর অনুমান করতে সক্ষম হয়েছেন। যেহেতু দৃশ্যমান নক্ষত্রগুলোর ভর জানা আছে, তাই বাকি অংশটুকু ডার্ক ম্যাটার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মহাকাশের এই রহস্যময় আবিষ্কারটি সম্ভব হয়েছে নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপের পুরনো ছবি বিশ্লেষণের মাধ্যমে। ইউনিভার্সিটি অফ অ্যারিজোনার জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডেভিড স্যান্ড এবং ক্যাথরিন ফিল্ডার হাবল টেলিস্কোপের আর্কাইভ থেকে পাওয়া তথ্যে ইউজিসি ৯০৫০-ডিডব্লিউ১ (UGC 9050-Dw1) গ্যালাক্সিটির ওই ক্ষীণ রেখাটি প্রথম পর্যবেক্ষণ করেন। পরবর্তীতে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয় ও টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির গবেষকদের সহায়তায় এটি নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, ডার্ক ম্যাটার মহাবিশ্বের মোট ভরের প্রায় ৮৫ শতাংশ দখল করে থাকলেও তা সরাসরি দেখা যায় না। কিন্তু তারার এই স্রোতের আকৃতি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ডার্ক ম্যাটারের বিন্যাস এবং এর প্রভাব নিখুঁতভাবে বুঝতে পারবেন। গবেষণাপত্রটি গত ১২ আগস্ট ‘নেচার’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকদের প্রত্যাশা, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ইউক্লিড মিশন এবং নাসার ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভবিষ্যতে এমন আরও অনেক স্টেলার স্ট্রিম খুঁজে পাওয়া যাবে। এটি মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও ডার্ক ম্যাটারের প্রকৃতি সম্পর্কে আরও নতুন তথ্য দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা।