যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মার্কিন সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ হিসেবে জেনারেল ক্রিস্টোফার লানেভের নিয়োগ চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে পেন্টাগন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই নিয়োগের বিষয়ে অটল থাকলেও, সিনেটের কয়েকজন আইনপ্রণেতার মধ্যে লানেভের যোগ্যতা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এই নিয়োগটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের কাঠামো নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, লানেভের ওপর মন্ত্রী হেগসেথের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং সিনেট পার্টনারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যথাযথ সময়ে তার মনোনয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে লানেভ ভাইস চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এপ্রিলে জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করার পর থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত চিফ অব স্টাফ হিসেবে কাজ করছেন।
লানেভের নিয়োগের বিরোধিতা বা সংশয় প্রকাশের কারণ হিসেবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি আইওয়ার সিনেটর জনি আর্নস্টসহ কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও এতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। এর একটি কারণ হলো, লানেভ মাত্র ছয় মাস আগে চার তারকা জেনারেলের মর্যাদা পেয়েছেন, যেখানে চিফ অব স্টাফ পদের জন্য সাধারণত অন্তত ১৮ মাসের অভিজ্ঞতা প্রত্যাশিত।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই সমালোচনার জবাবে বলেছেন, লানেভই বর্তমানে মার্কিন সেনাবাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় নেতা। তিনি কোনো ধরনের রাজনীতিতে জড়াতে আগ্রহী নন, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রত্যাশা অনুযায়ী। হেগসেথের দাবি, যারা লানেভের সমালোচনা করছেন তারা মূলত সামরিক বাহিনীতে নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রভাব হারানো কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী।
এদিকে, সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে আরও পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর সচিব ড্যান ড্রিসকল আগামী মাসের শুরুতে পদত্যাগ করতে পারেন। ড্রিসকল এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। ড্রিসকলের প্রস্থান নিশ্চিত হলে সেনাবাহিনীর শীর্ষ দুটি পদে কোনো সিনেট-নিশ্চিত নেতা থাকবেন না, যা সামরিক প্রশাসনের জন্য নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।