রাজধানীর গুলশান ও বনানীর অভিজাত এলাকায় স্পা সেন্টারের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকের কারবার চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, থানা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলার বিভিন্ন উইং এবং স্থানীয় সন্ত্রাসীদের ম্যানেজ করেই এসব ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। সম্প্রতি এসব স্পা সেন্টারে ধারাবাহিক অভিযানে শতাধিক নারী-পুরুষ গ্রেফতারের পর নেপথ্যের এই সিন্ডিকেটের কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গুলশান ও বনানী এলাকায় অর্ধশতাধিক ছোট-বড় স্পা সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে গুলশান-১ ও ২ এবং বনানীর বিভিন্ন ভবনে এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। বাইরে থেকে দেখলে বা প্রতিষ্ঠানের সামনে কোনো সাইনবোর্ড না থাকায় ভেতরে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলার বিষয়টি সহজে বোঝার উপায় নেই।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বনানীর একটি ভবনের সাততলায় অবস্থিত স্পা, যার মালিক শাওন। এছাড়া গুলশান-২ গোলচত্বরের পাশের একটি ভবনে রত্না নামের এক নারীর বিরুদ্ধে এবং বনানী কবরস্থানের উল্টো দিকে শহীদ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একইভাবে স্পার আড়ালে অনৈতিক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তাদের অনেকেই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কারবার পরিচালনার কৌশল হিসেবে অনলাইনে ওয়েবসাইট খুলে চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ভিজিটিং কার্ড বিতরণ ও এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে গ্রাহক সংগ্রহ করা হয়। সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে কঠোর নজরদারিতে রাখা এসব স্পাতে ঘণ্টাভেদে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত তদারকির অভাবে এবং প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে এসব এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েই চলেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানিয়েছেন, অভিজাত এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অবৈধ স্পা সেন্টারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে পুলিশ। নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। ইতিপূর্বে ডিবি ও গুলশান থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে মানবপাচার ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।