বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স পুনর্বহালের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে সরকার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করা ব্যাপক সংস্কার ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাম্প্রতিক পরিদর্শনে সন্তোষজনক অগ্রগতি পাওয়ায় শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছেন এবং সন্তোষজনক অগ্রগতি পাওয়া গেলে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এই সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে হাসপাতালের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এবং শত শত শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন।
সংস্কার ও পরিদর্শন প্রক্রিয়া
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ হাসপাতালটি পুনরায় চালুর আবেদন করে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি হাসপাতালটি পরিদর্শন করে দৃশ্যমান পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অধিদফতরের উপপরিচালক (হাসপাতাল) ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফী জানিয়েছেন, যে পর্যবেক্ষণগুলোর ভিত্তিতে লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল, তা সংশোধন করেছে কর্তৃপক্ষ। এখন আপিল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং অধিদফতর তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুল জানান, সরকারি নির্দেশনা মেনে ওয়ার্ডগুলো আধুনিকায়ন করা হয়েছে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে মেঝেতে বিশেষ এপক্সি কোটিং করা হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি
গত ২৭ মে হাসপাতালের পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে অক্সিজেনের স্বল্পতা ও ব্যবস্থাপনা ত্রুটির কারণে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা প্রমাণিত হওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদফতর লাইসেন্স বাতিল করে। এর ফলে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত ২৯৫ জন বিদেশি শিক্ষার্থীসহ শত শত শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবার একটি অন্যতম ভরসা। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চেয়ারপারসন শিরীন পারভিন এবং বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের সংগঠন বিপিএইচসিডিএ-এর মতে, বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনার কারণে পুরো হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ রাখলে সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা মনে করেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালটি পুনরায় চালু করা জনস্বার্থে জরুরি। সব প্রক্রিয়া শেষে এখন হাসপাতালটির লাইসেন্স পুনর্বহালের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাই।