যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানিয়েছেন, মানুষ এবং কুকুরের বার্ধক্য প্রক্রিয়ার মধ্যে জৈবিক মিল রয়েছে যা দীর্ঘায়ু সম্পর্কে নতুন তথ্য দিতে পারে। ডগ এজিং প্রজেক্টের গবেষকদের মতে, উভয় প্রজাতিতে আয়ুষ্কাল নির্ধারণে রক্তে থাকা নির্দিষ্ট অণু বা মেটাবোলাইটের ভূমিকা একই ধরনের।
গবেষণাটি দ্য জার্নালস অফ জেরন্টোলজিতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা গেছে, শরীরে বিপাকীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হওয়া ছোট রাসায়নিক অণুগুলোর যে বিন্যাস কুকুরের ক্ষেত্রে স্বল্প বা দীর্ঘ আয়ুর সাথে যুক্ত, মানুষের ক্ষেত্রেও সেই একই ধরন লক্ষ্য করা যায়। গবেষক ড. কেট ক্রিভি জানান, বার্ধক্যের সাথে সম্পর্কিত এই জৈবিক বৈশিষ্ট্যগুলো মানুষের মতোই কুকুরের ক্ষেত্রেও কার্যকর, যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ও আয়ু নিয়ে গবেষণায় পোষা কুকুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে উপস্থাপন করে।
বিপাকীয় বা মেটাবলিক অণুগুলো কোষের ভেতরে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনের একটি চিত্র তুলে ধরে। গবেষকরা ডগ এজিং প্রজেক্টে অংশগ্রহণকারী কুকুরদের রক্ত পরীক্ষা করে এসব অণুর বিন্যাস বিশ্লেষণ করেছেন। এই অণুগুলোকে গবেষকরা একটি ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। তাদের মতে, এসব বায়োমার্কার বার্ধক্যের অন্তর্নিহিত প্রক্রিয়া যেমন প্রদাহ, বিপাক এবং কোষের চাপের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
মানুষের ওপর পূর্বে সম্পন্ন হওয়া পাঁচটি বৃহৎ গবেষণার তথ্যের সাথে নতুন এই গবেষণার ফলাফল তুলনা করে গবেষকরা জানিয়েছেন, আয়ুর সাথে সম্পর্কিত জৈবিক সংকেতগুলোর মধ্যে ব্যাপক মিল রয়েছে। ড. ক্রিভি বলেন, মানুষের শরীরের আয়ু সংক্রান্ত প্রক্রিয়াগুলোর সাথে কুকুরের সাদৃশ্য থাকায়, মানুষের জন্য অর্জিত জ্ঞান কুকুরদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
পোষা কুকুরদের নিয়ে গবেষণার অন্যতম সুবিধা হলো, তারা তাদের মালিকদের পরিবেশে, খাদ্যাভ্যাসে এবং দৈনন্দিন রুটিনে অভ্যস্ত। এছাড়া কুকুরের আয়ু মানুষের তুলনায় কম হওয়ায় গবেষকরা তাদের পুরো জীবনকাল পর্যবেক্ষণ করে খুব দ্রুত বার্ধক্য সংক্রান্ত ফলাফলগুলো বিশ্লেষণ করতে পারেন। ভবিষ্যতে এই জৈবিক সংকেতগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে বার্ধক্যজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানোর উপায় খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে বলে গবেষকরা আশা করছেন।