যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন পরিবারে বাবা-মায়ের পক্ষ থেকে সন্তানদের আর্থিক সহায়তায় বৈষম্য বা পক্ষপাতিত্বের কারণে ভাইবোনদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটছে বলে এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কাউন্সেলিং পরিষেবা প্রতিষ্ঠান রিলেটের বিশেষজ্ঞ ড. ফেনিয়া ক্রিস্টোডুলিডির মতে, অর্থ নিয়ে ভাইবোনদের বিবাদ মূলত কেবল টাকার অংকে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি তাদের মানসিক প্রশান্তি ও পারিবারিক স্বীকৃতির ওপর প্রভাব ফেলে।
জন নামে ৪৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি জানান, তার বাবা-মা সবসময় তার ছোট ভাইকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন। এমনকি বিচ্ছেদের পর বাড়ির জমানতের জন্য ১০ হাজার পাউন্ডের প্রয়োজন হলেও তিনি বাবা-মায়ের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাননি। অথচ একই সময়ে তার ভাই নিয়মিতভাবে তাদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়ে আসছেন। জন মনে করেন, ছোটবেলায় একাডেমিক ক্ষেত্রে ভালো করার কারণে বাবা-মা তাকে স্বাবলম্বী হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন, অন্যদিকে ভাইকে সবসময় আগলে রাখা হয়েছে। এই পক্ষপাতিত্ব জনের ব্যক্তিগত জীবনে এবং অন্যদের সাথে তার সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আর্থিক সহায়তার কারণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রায়ই বাবা-মায়ের এমন আচরণের পেছনে ব্যবহারিক কারণ থাকতে পারে। যেমন কোনো সন্তানের উপার্জন কম হওয়া, অসুস্থতা থাকা কিংবা ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। তবে বাবা-মা যদি তাদের সিদ্ধান্তের কারণগুলো সন্তানদের কাছে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা না করেন, তবেই ভুল বোঝাবুঝি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বিবাদের নেতিবাচক প্রভাব ও সমাধান
পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির বিশেষজ্ঞ ক্লেয়ার ওয়েব জানান, উত্তরাধিকার বা সহায়তার বিষয়টি নিয়ে ভাইবোনদের মধ্যে অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী মনোমালিন্য তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো সন্তানকে আগে বাড়ির জন্য অর্থ দেওয়া হলেও উইলে সব সন্তানকে সমান অংশ দেওয়ার কথা বলা হয়, যা ঐতিহাসিকভাবে উপেক্ষিত থাকার অনুভূতিকে উসকে দেয়।
এই সমস্যার সমাধানে বিশেষজ্ঞরা খোলামেলা আলোচনার ওপর জোর দিচ্ছেন। পারিবারিক বাধার কারণে যারা কথা বলতে পারছেন না, তাদের জন্য মেডিয়েশন বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে মধ্যস্থতা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আইনি লড়াইয়ের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া বাবা-মাকে জীবিত থাকা অবস্থায় তাদের আর্থিক পরিকল্পনা ও ইচ্ছার কথা সন্তানদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।