কিরগিজস্তানের বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর দুদিনব্যাপী সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অংশ নিয়েছেন। পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলায় এই জোটকে একটি বিকল্প সমর্থনের ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য। দীর্ঘায়িত যুদ্ধের মুখে থাকা এই দুই দেশের জন্য চীনের অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সমর্থন বর্তমানে টিকে থাকার প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।
চীনের প্রভাব ও কৌশল
এই সম্মেলনের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা পণ্যের রফতানিকারক হওয়ায় চীনের সহযোগিতা রাশিয়া ও ইরানকে বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও অর্থনৈতিকভাবে সচল রেখেছে। ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নজর অন্যদিকে সরে যাওয়ায় বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শি জিনপিংয়ের প্রভাব আরও সংহত হয়েছে। ট্রাম্পের অর্থনৈতিক হুমকির মুখেও বেইজিং তেহরানের সাথে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।
যুদ্ধ অর্থনীতি ও সহায়তা
ইউক্রেনে রুশ আক্রমণ টিকিয়ে রাখতে এসসিওভুক্ত দেশগুলোর কৌশলগত ভূমিকা রয়েছে। ইরান রাশিয়াকে ড্রোন ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সরবরাহ করছে, অন্যদিকে মধ্য এশিয়ার দেশগুলো রাশিয়ার আমদানি ও লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হিসেবে কাজ করছে। রাশিয়ার তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারত, কাজাখস্তান ও বেলারুশ থেকে পেট্রোল সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া চীন ছাড় মূল্যে জ্বালানি কিনে মস্কোকে ইলেকট্রনিক্সসহ নানাবিধ পণ্য সরবরাহ করছে।
কিরগিজস্তানে চীনের আধিপত্য
সম্মেলনের স্বাগতিক দেশ কিরগিজস্তান একসময় সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ থাকলেও বর্তমানে দেশটিতে চীনের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। কিরগিজ প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের সঙ্গে সাক্ষাতে শি জিনপিং দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিং অ-পশ্চিমা বিশ্বের নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে চাইছেন। ওয়াশিংটনের সাথে অর্থনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ইউরেশিয়ায় নিজেদের প্রভাব বাড়িয়ে ট্রাম্পের সাথে আলোচনার জন্য নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করছেন চীনা প্রেসিডেন্ট।