যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) এবং ২২টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এতে অভিযোগ করা হয়েছে, আমাজন তাদের ওয়েবসাইট ও অ্যাপে বিজ্ঞাপনের মূল্য বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য গোপন ও পদ্ধতিগতভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। এফটিসি চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন এক ব্লগ পোস্টে জানান, বিজ্ঞাপনের এই উচ্চমূল্য শেষ পর্যন্ত আমেরিকান ভোক্তাদের ওপরই চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, আমাজন এফটিসি আইন এবং ১২টিরও বেশি অঙ্গরাজ্যের আইন লঙ্ঘন করেছে। এর আগে প্রাইম সাবস্ক্রিপশন সংক্রান্ত অপর একটি মামলায় আড়াই বিলিয়ন ডলার জরিমানার বিনিময়ে সমঝোতার এক বছরের মাথায় আমাজন নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়ল।
অভিযোগের বিস্তারিত
আমাজনের বিজ্ঞাপনের নিলাম পদ্ধতিতে নিয়ম অনুযায়ী বিজয়ী নিলামকারীকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতার চেয়ে মাত্র এক সেন্ট বেশি দিতে হয়। তবে এফটিসির দাবি, ২০১৯ সাল থেকে আমাজন এই নিলাম প্রক্রিয়ায় কারসাজি করছে। নিলামের ফলাফল নির্ধারিত হওয়ার পর আমাজন স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি উচ্চমূল্য নির্ধারণ করে দেয়, যা তাদের মুনাফা বাড়াতে সহায়তা করে। এফটিসির অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাজন তাদের বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে হাতিয়ে নিয়েছে।
আমাজনের অবস্থান
এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় আমাজন জানিয়েছে, এফটিসির এই দাবি সম্পূর্ণ ভুল এবং এটি বিজ্ঞাপনদাতাদের আচরণকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে। কোম্পানির ভাষ্যমতে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্পনসর্ড প্রোডাক্ট সার্চ বিজ্ঞাপনের গড় দর ৫০ শতাংশ কমেছে। এছাড়া বিজ্ঞাপনের বাড়তি খরচ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও আমাজন অস্বীকার করেছে।