যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার চ্যাপেল হিল শহরে অনুষ্ঠিত জি-২০ ইনোভেশন মিনিস্ট্রিয়াল বা উদ্ভাবনী মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্মেলনে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তারা এআইয়ের জন্য কোনো নতুন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা গঠনের পক্ষে নন।
ট্রাম্প প্রশাসনের এআই বিষয়ক উপদেষ্টা ডেভিড স্যাকস ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বলেন, এআই খাতের জন্য নতুন কোনো কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করা হবে একটি বিপর্যয়। তিনি একে ট্রাফিক পুলিশের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে তুলনা করে বলেন, নতুন এআই মডেলগুলো অনুমোদনের অপেক্ষায় আটকে থাকলে তা প্রযুক্তি খাতের স্বাভাবিক গতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তার মতে, এআই প্রযুক্তি অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং এমন কোনো কাঠামোর মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
সম্মেলনে ট্রাম্প প্রশাসনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতি বিষয়ক পরিচালক মাইকেল ক্রাতসিওস বলেন, বর্তমানের জটিল ও দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির যুগে পুরনো ধাঁচের নীতিমালা কার্যকর নয়। তিনি একটি ‘প্রো-ইনোভেশন’ কাঠামো বা ‘ক্যারোলিনা প্রিন্সিপালস’-এর পক্ষে মত দেন, যা নতুন প্রযুক্তির গবেষণা ও বাণিজ্যিক প্রসারে সহায়তা করবে।
তবে এআই নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বিশ্বজুড়ে দ্বিমত রয়েছে। অ্যানথ্রপিক নামক কোম্পানির সিইও দারিও আমোদি সাম্প্রতিক এক লেখায় এআই মডেলগুলোর জন্য কঠোর প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং অডিটের পক্ষে কথা বলেছিলেন। তিনি এআইকে বিমানের নিরাপত্তার সাথে তুলনা করে সরকারি তদারকির দাবি জানান।
এদিকে স্পেসএক্স-এর সিইও ইলন মাস্ক এবং মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গও সম্মেলনে তাদের মতামত তুলে ধরেন। ইলন মাস্ক নতুন উদ্ভাবনকে আইনের বেড়াজালে না ফেলার পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে, জাকারবার্গ উন্মুক্ত বা ওপেন-সোর্স এআই মডেলের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, এটি প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
চলতি বছরের ডিসেম্বরে মায়ামিতে অনুষ্ঠিতব্য জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে বিশ্ব নেতাদের। চ্যাপেল হিলের এই সম্মেলনে উঠে আসা নীতিগুলো ভবিষ্যতে বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।