যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা তাদের ২১ বছর বয়সী সুইফট টেলিস্কোপটিকে ফের মহাকাশ গবেষণায় ফিরিয়ে এনেছে। তবে কক্ষপথ পরিবর্তনের বাণিজ্যিক মিশনটি ব্যর্থ হওয়ায় এই টেলিস্কোপটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নাসা জানিয়েছে, বায়ুমণ্ডলের টানে টেলিস্কোপটি প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসছে। ফলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই এটি তার গুরুত্বপূর্ণ উচ্চতা হারিয়ে ফেলতে পারে।
সুইফট টেলিস্কোপের আল্ট্রাভায়োলেট/অপটিক্যাল এবং এক্স-রে টেলিস্কোপ দুটি ২৬ আগস্ট পুনরায় চালু করা হয়েছে। বায়ুমণ্ডলের টান কমাতে এবং কক্ষপথে টেলিস্কোপটির আয়ু বাড়াতে এ বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে টেলিস্কোপের তৃতীয় অংশ ‘বার্স্ট অ্যালার্ট টেলিস্কোপ’ এখনো সচল করা সম্ভব হয়নি। নাসা আশা করছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেটিও তথ্য সংগ্রহ শুরু করতে পারবে।
সুইফট মূলত মহাজাগতিক বিভিন্ন ঘটনার দ্রুত পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষভাবে তৈরি। এটি মহাকাশে কোনো আকস্মিক বিস্ফোরণ বা পরিবর্তন শনাক্ত করলে দ্রুত সংকেত পাঠাতে পারে। তবে নিম্ন কক্ষপথে অবস্থিত হওয়ায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণে এটি ধীরে ধীরে গতি হারিয়ে নিচে নেমে আসছে। টেলিস্কোপটির নিজস্ব কোনো প্রপালশন সিস্টেম নেই, যা দিয়ে এটি তার কক্ষপথ উঁচুতে তুলতে পারে।
সম্প্রতি সূর্যের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় পৃথিবীর ওপরের বায়ুমণ্ডল প্রসারিত হয়েছে। এর ফলে মহাকাশযানের ওপর বায়ুমণ্ডলের টান বা ড্র্যাগ বেড়ে গেছে এবং সুইফট আগের চেয়ে দ্রুত উচ্চতা হারাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাসা গত বছর কাতালিস্ট স্পেসের সঙ্গে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি করেছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘লিংক’ নামের একটি মহাকাশযানের মাধ্যমে সুইফটকে ধাক্কা দিয়ে উচ্চতর কক্ষপথে নেওয়ার কথা ছিল।
তবে জুলাই মাসে উৎক্ষেপণের পর লিংক মহাকাশযানটি দিক নিয়ন্ত্রণের সমস্যায় পড়ে। ফলে নাসা এবং কাতালিস্ট গত ১৯ আগস্ট জানায় যে, সুইফটকে কক্ষপথে তোলার মিশনটি বাতিল করা হয়েছে। এখন কেবল প্রযুক্তিগত পরীক্ষার অংশ হিসেবে লিংক মহাকাশযানটিকে সুইফটের কাছাকাছি নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।
নাসার তথ্যমতে, সুইফট যদি ১৮৫ মাইল বা ৩০০ কিলোমিটারের নিচে নেমে আসে, তবে সেটির পরিচালনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। বর্তমানে যে গতিতে টেলিস্কোপটি নিচে নামছে, তাতে পরবর্তী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই এটি সেই ঝুঁকিপূর্ণ সীমায় পৌঁছে যাবে। তত দিন পর্যন্ত সুইফট মহাজাগতিক পর্যবেক্ষণে সাধ্যমতো কাজ চালিয়ে যাবে।